• Narrow screen resolution
  • Wide screen resolution
  • Auto width resolution
  • Increase font size
  • Decrease font size
  • Default font size
Member Area

নিসর্গ : বাংলার প্রকৃতি | Nishorga : Bangladesh Nature & Environment

Monday
Oct 06th
হোম arrow ভ্রমণ arrow সুন্দরবন- অপার সৌন্দর্যের হাতছানি
সুন্দরবন- অপার সৌন্দর্যের হাতছানি প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন লিটন বাশার   
Sunday, 11 February 2007
আর্টিকেল সূচি
সুন্দরবন- অপার সৌন্দর্যের হাতছানি
সুন্দরবনের দর্শনীয় স্থান
সুন্দরবনের রহস্য পুরুষ
রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ
সুন্দরবনে পর্যটন সুবিধা নেই
উপসংহার

সুন্দরবনে পর্যটন সুবিধা নেই

নয়নাভিরাম সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটকদের আকর্ষণ থাকলেও আজ পর্যন্ত সেখানে পর্যটন সুবিধা গড়ে ওঠেনি। কটকায় বন বিভাগের একটি গেস্ট হাউস থাকলেও তার ভাড়া বেশী। কটকার রেস্ট হাউসে ৮ জনের বেশী থাকা যায় না। কচিখালী গেস্ট হাউসে থাকা যায় ৬ জন। এসব রেস্ট হাউসে ভাড়া ৩ হাজার টাকা করে। গেস্ট হাউস দেখাশুনার জন্য একজন বনকর্মী রয়েছে। কটকা কিংবা কচিখালীতে পৌঁছে গেস্ট হাউস ভাড়া করা সম্ভব নয়। বাগেরহাটের ডিএফও'র কাছ থেকে গেস্ট হাউস ভাড়া নিতে হয়। গেস্ট হাউসে পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় পর্যটকরা রাত কাটান লঞ্চে।

সুন্দরবনে ২৩ বছর

বন বিভাগের নিম্নপদে যারা চাকরি করেন তাদের সারা জীবন কেটে যায় সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে। ২০/২৫ বছর সুন্দরবনে থাকেন এ রকম বনকর্মীর সংখ্যাই বেশী। এদের রয়েছে বন্য প্রাণী নিয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে বৃদ্ধ আব্দুর রউফ জানান, ২৩ বছর যাবৎ তিনি সুন্দরবনে আছেন। কখনো সাতক্ষীরা, কখনো কোবাদক্ষ আবার কখনো বা শরণখোলা কিংবা ঢাইনমারিতে কেটে গেছে

Photo http://flickr.com/photos/a-s-i-f/
Photo Asif Ali, http://flickr.com/photos/a-s-i-f/
তার জীবনের সোনালী দিনগুলো। নিজের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। বিয়ের পরে স্ত্রীকে নিয়ে কর্মস্থলে থেকেছেন হাতেগোনা কয়েক দিন। চাকরির খাতিরে একাকি ঘুরে বেড়িয়েছেন কটকা থেকে কোবাদক্ষ। বয়সের ভারে নতজানু রউফ এখনো অস্ত্র হাতে ঘুরে বেড়ান সুন্দরবনের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। ২৩ বছরে সুন্দরবনের বাঘ, ভাল্লুকের পাশাপাশি জলোচ্ছ্বাসের সাথে লড়াই করে এখনো বেঁচে আছেন। জীবন সংগ্রামের শেষ বেলাভূমিতে দাড়িয়ে নিজেকে নিয়ে আর কোন স্বপ্ন নেই তার। এক ছেলে ও এক মেয়ে মধ্যে ছেলে মেধাবী। সে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। মেয়ে বিয়ে দেয়ার পর চাকরি নিয়েছে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে। পরিবার পরিজন সবাই থাকে ঢাকা ও টাঙ্গাইলে। তিনি এখনো ঘুরে বেড়ান সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে।

ট্যুরিজম মালিকদের অভিযোগ

সুন্দরবনের পর্যটন সুবিধা নেই বলে ট্যুরিজম মালিকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ। সুন্দরবনকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে ট্যুরিজম মালিকরা। তাদের অভিযোগ বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যটনের ব্যাপারে তেমন কোন আগ্রহ নেই। পর্যটকরা সুন্দরবনে না গেলে তাদের গাছ কাটা ও মাছ ধরা কিংবা মধু সংগ্রহ করতে সুবিধা হয়। পর্যটকদের সামনে তারা হরিণ শিকার করতে পারেন না। তাই পর্যটকরা যাতে সুন্দরবনে না যায় সে রকমই মনোভাব থাকে বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

বনকর্মীদের বক্তব্য

বন বিভাগের লোকজন পর্যটকদের এ ধরনের বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, চাকরির পরে তাদেরকে সুন্দরবনে বদলি করা হলেও থাকা-খাওয়ার কোন ব্যবস্থা বনে নেই। জেলেদের মাধ্যমে স্থল পথ থেকে নেয়া খাবার খেয়ে তারা সুন্দরবনে বেঁচে থাকেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হলে জেলেরা নির্ধারিত সময় সুন্দরবনে না গেলে তাদেরকে না খেয়ে থাকতে হয়। বৃহত্তর এ বনাঞ্চলকে রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত লোকবল কিংবা নৌযান নেই। বিট অফিসের ৫ কিলোমিটার দূর থেকেও গাছ কেটে নিলে বন রক্ষিদের করার কিছু থাকে না। কারণ নদী পাড় হয়ে তাদের সেখানে যাওয়ার উপায় থাকে না। তাদের কাছে অস্ত্র থাকলেও গুলি করার অনুমতি নেই। তাই তারা অস্ত্র রক্ষার জন্যই বনদস্যুদের ভয়ে উৎকণ্ঠিত থাকেন। বনকর্মীরা জানায়, তাদের চেয়ে বনদস্যুদের কাছে শক্তিশালী অস্ত্র রয়েছে। বনদস্যুদের হাতে লোক মারা গেলে তেমন ঝামেলা নেই। কিন্তু তাদের গুলিতে বনদস্যু মারা গেলেও পরবর্তীতে সে জেলে হয়ে যায়। বনদস্যুরা নিজেদের জেলে পরিচয় দিয়ে বন বিভাগ থেকে পাস সংগ্রহ করে বনে প্রবেশ করে কাঠ পাচার করে।



সর্বশেষ আপডেট ( Sunday, 25 February 2007 )
 
< পূর্বে   পরে >