|
সুন্দরবন- অপার সৌন্দর্যের হাতছানি |
|
|
|
লিখেছেন লিটন বাশার
|
|
Sunday, 11 February 2007 |
|
পাতা 3 মোট 6 সুন্দরবনের রহস্য পুরুষ
কেউ তাকে বলে সুন্দরবনের রহস্য পুরুষ। আবার কেউ বা বলেন সুন্দরবনের স্বপ্নের পুরুষ। বিশেষণ যাই হউক না কেন ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত সুন্দরবনের একক আধিপত্য প্রভাব বিস্তারকারী সুপুরুষ হিসেবে মেজর (অবঃ) জিয়াউদ্দিনের নামই শোনা যায়। সেখানে মৎস্য শিকারে যাওয়া জেলেরা মেজর জিয়াউদ্দিনের উপর মহাখুশী। দুবলার চরে মৎস্য শিকারে আসা মিজানুর রহমান জানান, ১৯৮০ সালের দিকে এখানে মৎস্য শিকারে আসলে জেলেদের জাল, নৌকা এমনকি খাবার পর্যন্ত দস্যুরা নিয়ে যেত। মেজর জিয়াউদ্দিন তখন দুবলার ৬/৭টি চর নিয়ে একটি জেলে ইউনিট গঠন করেন। মৎস্য শিকারীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করায় জলদস্যু, বনদস্যু, বনরক্ষি ও পুলিশের হয়রানি তাদের উপর অনেক কমে গেছে।
সুন্দরবনে প্রতিপক্ষকে মেজর জিয়া টিকতে দেন না এ রকম অভিযোগ থাকলেও মেজর জিয়া তা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, দস্যুদের দমন করতে কখনো কখনো তাদের কঠোর হতে হয়। তিনি বলেন, যখন একটি জেলে নৌকা থেকে সবকিছু লুটপাটের পর ঐ জেলেকে পঙ্গু করে দেয়া হয় তখন সেই জলদস্যু ধরা পড়লে তার ব্যাপারে কঠোর হওয়া ছাড়া আর উপায় থাকে না। সুন্দরবনে মেজর জিয়ার টাইগার চিংড়ির ব্যবসা থাকলেও তার পরিসর ছোট। সেখানে মূল ব্যবসার পসরা সাজিয়ে বসেছেন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। এক একজন বহরদার এ মৌসুমে প্রায় এক কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন।
মৎস্য শিকার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সবকিছুই সম্পন্ন করা হয় দুবলার চরে। এ মৌসুমে জেলেরা শিকার করে রূপচাঁদা, লইট্টা, টেটা, ফ্যাইশা ও বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ি। চিংড়িসহ তাজা মাছ চলে যায় খুলনায়। শুঁটকি পাঠানো হয় চট্টগ্রামে। এসব ব্যবসা মেজর জিয়াউদ্দিনের নখদর্পণে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি সুন্দরবনে ঘাঁটি গেড়ে সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে ৪৪০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিজের দখলে রেখেছেন। তাই সুন্দরবনের মানচিত্র এখনো তার মুখস্ত। জীবনের অনেক সোনালী সকাল, উত্তপ্ত দুপুর, উদাস বিকেল আর মায়াবি সন্ধ্যা তিনি কাটিয়ে দিয়েছেন সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে। তাই তার এক কথা সুন্দরবনকে তিনি খুব বেশী ভালবাসেন। সুন্দরবনকে নিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখেন। সুন্দরবন দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠুক এটাই তার কাম্য।
|
|
সর্বশেষ আপডেট ( Sunday, 25 February 2007 )
|