• Narrow screen resolution
  • Wide screen resolution
  • Auto width resolution
  • Increase font size
  • Decrease font size
  • Default font size
Member Area

নিসর্গ : বাংলার প্রকৃতি | Nishorga : Bangladesh Nature & Environment

Tuesday
Oct 07th
হোম arrow ভ্রমণ arrow সুন্দরবন- অপার সৌন্দর্যের হাতছানি
সুন্দরবন- অপার সৌন্দর্যের হাতছানি প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন লিটন বাশার   
Sunday, 11 February 2007
আর্টিকেল সূচি
সুন্দরবন- অপার সৌন্দর্যের হাতছানি
সুন্দরবনের দর্শনীয় স্থান
সুন্দরবনের রহস্য পুরুষ
রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ
সুন্দরবনে পর্যটন সুবিধা নেই
উপসংহার

সুন্দরবনের দর্শনীয় স্থান

ঢাইনমারি অতিক্রম করলেই মংলার বহির্নোঙ্গরে দেখা যাবে একের পর এক বিদেশী জাহাজ। দেশ-বিদেশের পতাকাবাহী এসব বড় বড় জাহাজ দেখতে দেখতেই চোখে ভেসে উঠবে সুন্দরবনের সবুজ বেষ্টনী। এসব কেওড়া, গরাণ, সুন্দরী গাছ আর গোলপাতার বাগান দেখতে দেখতেই পৌঁছে যাওয়া সম্ভব কচিখালী, কটকা কিংবা হিরণ পয়েন্টে। পর্যটকদের এখন মূল আকর্ষণ কটকা। হিরণ পয়েন্টের চেয়েও কটকা আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সেখানে পৌঁছাতে মংলা থেকে সময় লাগবে ১২/১৪ ঘন্টা। কটকায় খুব সহজেই ঝাঁকে ঝাঁকে হরিণ দেখা যায়। ছোট ট্রলার কিংবা নৌকায় করে কটকার এপার-ওপার ঘুরে হরিণ ও বানরসহ বিরল প্রজাতির পাখি দেখা সম্ভব। এখানে দেখা সম্ভব হরিণ ও বানরের মিতালী। বানর গাছ থেকে খাবার নীচে ফেলে দেয়। হরিণ নীচে বসে অনায়াসে খাবার খায়। বাঘ আসতে দেখলে আগেভাগেই বানর হরিণকে সংকেত দেয়। হরিণ সংকেত পেয়ে পালিয়ে যায়। কটকায় রয়েছে বন বিভাগের ওয়াচ টাওয়ার। গাছের সমান উঁচু ঐ টাওয়ারে পর্যটকরা অনায়াসেই উঠে পড়েন এবং সুন্দরবনকে উপর থেকে এক নজর দেখে নেন।

Life in the Sundarbans http://flickr.com/photos/a-s-i-f/
Life in the Sundarbans, Photo Asif Ali, http://flickr.com/photos/a-s-i-f/
কটকায় ভ্রমনের জন্য কিছু বিপদও রয়েছে। সেখানে রয়েছে বাঘের অবাধ বিচরণ। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়লে বাগানে প্রবেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তখন সেখানে রাজত্ব গেড়ে বসে বাঘ। তাই ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। কটকার পাশেই বঙ্গোপসাগর। সেখানে ছোট একটি বিচ রয়েছে। কিন্তু ২০০৪ সালে ঐ বিচে ভ্রমণ করতে গিয়ে জলোচ্ছ্বাসে প্রাণ হারিয়েছিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী। তারপর থেকে ঐ বিচে ভ্রমণের ব্যাপারে বনবিভাগ কিছু নিয়ম-কানুন বেধে দিয়েছে। এছাড়াও বাঘের বিচরণ এলাকায় বনবিভাগ বিপজ্জনক সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছে। এতসব ভয়ংকর গল্পের পরও পর্যটকরা সশস্ত্র বন রক্ষিদের সাথে নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। সুন্দরবন এলাকায় প্রবেশ করার সময় ঢাইনমারি বিট অফিস থেকে অস্ত্র ও পোশাকধারী দু'জন বনরক্ষিকে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সাথে দিয়ে দেয়া হয়। তারাই সুন্দরবনের হিংস্র প্রাণী কিংবা জলদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা করতে তিন দিনের সাথী হয়ে থাকে।

দুবলার চর
সমগ্র সুন্দরবন ঘুরে মানুষের দেখা না মিললেও বন থেকে ফেরার পথে আলোরকোল হয়ে দুবলার চরে যাত্রা বিরতি করলে দেখা মিলবে হাজার হাজার মৎস্য শিকারীর। সাগর সংলগ্ন বনের একটি অংশ কেটে সেখানে ৫ মাসের জন্য অস্থায়ী বসতি গড়ে তুলেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা হাজার হাজার জেলে। এদের মধ্যে কেউ বরিয়ালী, কেউ বাওয়ালী ও জেলে। প্রতি বছর অক্টোবর মাস আসলেই এরা দল বেঁধে ছুটে আসে দুবলার চরে। ফেব্রুয়ারী মাস শেষ হলেই ফিরে যায় বাড়িঘরে। বঙ্গোপসাগরে মৎস্য শিকারের জন্য অস্থায়ীভাবে দুবলার চরে তাদের বসবাস। জলদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেতে তারা সেখানে সংঘটিত। হিংস্র প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা পেতে অস্থায়ী জেলে পল্লীকে কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে আলাদা করে রাখা হয়েছে। ফলে বন্য প্রাণী কোনক্রমেই জেলে পল্লীতে প্রবেশ করতে পারে না। দুবলার ৯টি চরে প্রায় ২৫ হাজার জেলে রয়েছে। এরা বিভিন্ন বহরে কাজ করে থাকেন। এক একটি বহরে ১০০/১৫০ জেলে কাজ করে। দুবলার চরের মুল ভূখন্ডে রয়েছে ৯ জন বহরদার। এদের মধ্যে অনিল বহরদার ও সাবের কোম্পানী পুরনো। এ দু'জন জানায়, সাগরের দস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেতেই ১৯৮৫ সালে দুবলা ফিশারমেন গ্রুপ গঠন করা হয়। ফিশারমেন গ্রুপের চেয়ারম্যান সুন্দরবনের রহস্য পুরুষ মেজর (অবঃ) জিয়াউদ্দিন। এ সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহানূর রহমান শামীম জানান, এক সময় সুন্দরবনে মৎস্য শিকার করতে আসা জেলেরা শান্তিতে ঘুমাতে পারত না। এখন তারা লাখ লাখ টাকা বালির মধ্যে পুতে রেখে ঘুমিয়ে থাকে। কেউ তাদের কিছু বলে না।



সর্বশেষ আপডেট ( Sunday, 25 February 2007 )
 
< পূর্বে   পরে >