| সুন্দরবন- অপার সৌন্দর্যের হাতছানি |
|
|
| লিখেছেন লিটন বাশার | ||||||||
| Sunday, 11 February 2007 | ||||||||
পাতা 2 মোট 6 সুন্দরবনের দর্শনীয় স্থান ঢাইনমারি অতিক্রম করলেই মংলার বহির্নোঙ্গরে দেখা যাবে একের পর এক বিদেশী জাহাজ। দেশ-বিদেশের পতাকাবাহী এসব বড় বড় জাহাজ দেখতে দেখতেই চোখে ভেসে উঠবে সুন্দরবনের সবুজ বেষ্টনী। এসব কেওড়া, গরাণ, সুন্দরী গাছ আর গোলপাতার বাগান দেখতে দেখতেই পৌঁছে যাওয়া সম্ভব কচিখালী, কটকা কিংবা হিরণ পয়েন্টে। পর্যটকদের এখন মূল আকর্ষণ কটকা। হিরণ পয়েন্টের চেয়েও কটকা আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সেখানে পৌঁছাতে মংলা থেকে সময় লাগবে ১২/১৪ ঘন্টা। কটকায় খুব সহজেই ঝাঁকে ঝাঁকে হরিণ দেখা যায়। ছোট ট্রলার কিংবা নৌকায় করে কটকার এপার-ওপার ঘুরে হরিণ ও বানরসহ বিরল প্রজাতির পাখি দেখা সম্ভব। এখানে দেখা সম্ভব হরিণ ও বানরের মিতালী। বানর গাছ থেকে খাবার নীচে ফেলে দেয়। হরিণ নীচে বসে অনায়াসে খাবার খায়। বাঘ আসতে দেখলে আগেভাগেই বানর হরিণকে সংকেত দেয়। হরিণ সংকেত পেয়ে পালিয়ে যায়। কটকায় রয়েছে বন বিভাগের ওয়াচ টাওয়ার। গাছের সমান উঁচু ঐ টাওয়ারে পর্যটকরা অনায়াসেই উঠে পড়েন এবং সুন্দরবনকে উপর থেকে এক নজর দেখে নেন। ![]() Life in the Sundarbans, Photo Asif Ali, http://flickr.com/photos/a-s-i-f/ দুবলার চর সমগ্র সুন্দরবন ঘুরে মানুষের দেখা না মিললেও বন থেকে ফেরার পথে আলোরকোল হয়ে দুবলার চরে যাত্রা বিরতি করলে দেখা মিলবে হাজার হাজার মৎস্য শিকারীর। সাগর সংলগ্ন বনের একটি অংশ কেটে সেখানে ৫ মাসের জন্য অস্থায়ী বসতি গড়ে তুলেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা হাজার হাজার জেলে। এদের মধ্যে কেউ বরিয়ালী, কেউ বাওয়ালী ও জেলে। প্রতি বছর অক্টোবর মাস আসলেই এরা দল বেঁধে ছুটে আসে দুবলার চরে। ফেব্রুয়ারী মাস শেষ হলেই ফিরে যায় বাড়িঘরে। বঙ্গোপসাগরে মৎস্য শিকারের জন্য অস্থায়ীভাবে দুবলার চরে তাদের বসবাস। জলদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেতে তারা সেখানে সংঘটিত। হিংস্র প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা পেতে অস্থায়ী জেলে পল্লীকে কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে আলাদা করে রাখা হয়েছে। ফলে বন্য প্রাণী কোনক্রমেই জেলে পল্লীতে প্রবেশ করতে পারে না। দুবলার ৯টি চরে প্রায় ২৫ হাজার জেলে রয়েছে। এরা বিভিন্ন বহরে কাজ করে থাকেন। এক একটি বহরে ১০০/১৫০ জেলে কাজ করে। দুবলার চরের মুল ভূখন্ডে রয়েছে ৯ জন বহরদার। এদের মধ্যে অনিল বহরদার ও সাবের কোম্পানী পুরনো। এ দু'জন জানায়, সাগরের দস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেতেই ১৯৮৫ সালে দুবলা ফিশারমেন গ্রুপ গঠন করা হয়। ফিশারমেন গ্রুপের চেয়ারম্যান সুন্দরবনের রহস্য পুরুষ মেজর (অবঃ) জিয়াউদ্দিন। এ সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহানূর রহমান শামীম জানান, এক সময় সুন্দরবনে মৎস্য শিকার করতে আসা জেলেরা শান্তিতে ঘুমাতে পারত না। এখন তারা লাখ লাখ টাকা বালির মধ্যে পুতে রেখে ঘুমিয়ে থাকে। কেউ তাদের কিছু বলে না। |
||||||||
| সর্বশেষ আপডেট ( Sunday, 25 February 2007 ) | ||||||||
| < পূর্বে | পরে > |
|---|