• Narrow screen resolution
  • Wide screen resolution
  • Auto width resolution
  • Increase font size
  • Decrease font size
  • Default font size
Member Area

নিসর্গ : বাংলার প্রকৃতি | Nishorga : Bangladesh Nature & Environment

Monday
Oct 06th
হোম arrow ভ্রমণ arrow দ্বিচক্রযানে কেওক্রাডং অভিযান
দ্বিচক্রযানে কেওক্রাডং অভিযান প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন মাসুক আহমেদ (Mashuk Ahmed)   
Sunday, 11 February 2007
আর্টিকেল সূচি
দ্বিচক্রযানে কেওক্রাডং অভিযান
অভিযান প্রথম পর্ব
অভিযান দ্বিতীয় পর্ব
অভিযান তৃতীয় পর্ব
ভ্রমণের ভিডিও ক্লিপ ও অন্যান্য

স্বপ্নের শুরু
আর ইউ শিওর?? প্রশ্নটা করেছিলেন সাগর ভাই, ইমরান ভাইকে কোনো এক শীতের সন্ধ্যায়। আমরা বাংলা মোটরের মোড়ে চা খেতে খেতে আড্ডা মারছিলাম, আড্ডার বিষয় ছিলো আমাদের পরবর্তী ভ্রমণ নিয়ে, তখনই বিদ্যুৎ ঝলকের মতো ইমরান ভাই তার আইডিয়াটা আমাদের জানালেন, তিনি নিরীহ মুখ করে আমাদের জানালেন যে তিনি প্ল্যান করছেন আমাদের পরবর্তী ভ্রমণটা হোক একটু অন্যরকম। আমরা সবাই জানতে চাইলাম অন্যরকমটা কিরকম হবে? তখন তিনি যা বললেন তা শুনে আমাদের কারো কারো চোখ লোভে চকচক করে উঠেছিলো, আবার কারো কারো চোখ ছানাবড়া হয়ে গিয়েছিলো। তাঁর প্লানটা ছিলো কেওক্রাদং যাওয়া হবে, তবে পায়ে হেঁটে নয় আমরা যাবো সাইকেলে চড়ে...... আর সেটা শুনেই সাগর ভাই এর ওই প্রশ্ন (এরমধ্যে জানিয়ে রাখি আমাদের ঘুরে বেড়ানোর দলের নামও কিন্তু কেওক্রাদং) ।

বাস্তবায়নের দরজায় করাঘাত
ওই রাতের পর থেকে আমরা মোটামুটিভাবে জল্পনা কল্পনা শুরু করে দিয়েছি যে সাইকেলে কেওক্রাদং ভ্রমণ ব্যাপারটা কতটুকু উত্তেজনাকর হতে পারে, এরসাথে আমরা যা করেছি তা হলো ঢাকা শহরের কতগুলো সাইকেল মেকারের বিরক্তির কারণ হয়েছি তাদের কাছ থেকে যতটুকু সম্ভব সাইকেল মেরামত করার প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করার চেষ্টা করে। তবে যতই বিরক্তি দেখাক না কেন তারা কিন্তু বেশ ভালোভাবেই মনোযোগ দিয়ে আমাদের সমস্যা শুনতো এবং সমাধান দিতো। যার জন্য একটা বিশাল ধন্যবাদ অবশ্যই তাদের প্রাপ্য। তো মোটামোটি এভাবেই আমদের দিনকাল চলছিলো। যারা যাওয়ার ব্যাপারে সিরিয়াস ছিলাম তাদের মাথায় তো প্রতিদিন সাইকেল সাইকেল রব চলতো, আর প্রতিদিন কে কি শিখলাম বা জানলাম তা এসে উগরে দিতাম বাংলা মোটরের সেই আড্ডায়। এভাবে আমরা এগিয়ে চলেছিলাম আমাদের স্বপ্নের বাস্তবায়নের পথে।

প্রস্তুতি পর্ব
মোটামোটি সাইকেল সম্বন্ধে বিশদ জ্ঞান অর্জন করার পর আমরা আমাদের অভিযানের দিনক্ষণ ঠিক করার চেষ্টা করতে থাকলাম। যেহেতু আমরা সংখ্যায় সাতজন, এবং আমাদের মধ্যে চাকরিজীবি মানুষের সংখ্যাই বেশী তো আমরা কোরবানী ঈদ এর ছুটিটাকেই টার্গেট করলাম। এবং সেই অনুযায়ী আমাদের প্রস্তুতি পর্বও চলতে থাকলো, মোটামুটিভাবে আমরা ঠিক করলাম ঈদের দিন রাতেই শুরু করবো আমাদের অভিযান।

যাত্রা পর্ব
ঈদের দিন রাত ৯.৩০ মিনিট, ঢাকা শহরের রঙীন আলোগুলো ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হচ্ছে আর আমরা সবাই এই শীতের রাতে প্রস্তুতি নিচ্ছি আমাদের অভিযানের। যাই হোক রাত ঠিক ১০.৩০ মিনিটে আমরা আমদের আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র নিয়ে হাজির হলাম কমলাপুরস্থ এস. আলম বাস কাউন্টারে। আমাদের মধ্যে সাইকেল অভিযাত্রী ছিলেন ৫ জন। এবং ২ জন আমরা ছিলাম ব্যাকআপ টিম। সাইক্লিস্ট টিম এর সদস্যরা হলেন ইমরান ভাই, সাগর ভাই, তন্ময়, মুন এবং সালমান। আর ব্যাকআপ টিমে ছিলাম নাযাম ভাই, আমি এবং আমাদের সবার মিলিত প্রেরণা ।

একটি পাড়া
একটি পাড়া
বাস ছাড়বে রাত ১১.১৫ মিনিটে, এরমধ্যে রিফাত ভাই এবং গণী ভাই এসে আমাদের সবাইকে অনুপ্রেরণা দিয়ে গেলেন এবং জানিয়ে গেলেন তাদের আশির্বাদ আমাদের উপর সবসময়ই থাকবে। আমরা আমাদের সাইকেল এবং মালপত্রগুলো বাসে তুলে দিয়ে চা খেতে খেতে আমাদের অভিযান সম্মন্ধে আলোচনা করতে থাকলাম। এবং আমরা এর সাফল্যের ব্যপারে ১০০ ভাগ নিশ্চিত ছিলাম। তবে আমাদের বাসের সহযাত্রীদের ছানাবড়া চোখগুলো মনে থাকবে অনেকদিন.....

শীতের আবেশে ঘুমাতে ঘুমাতে আমরা একসময় কালুরঘাট ব্রিজে আমাদের আবিষ্কার করলাম। ঢুলু ঢুলু চোখে আমরা আবিস্কার করলাম ব্রিজের ছাদে আমাদের একটি সাইকেল আটকে গেছে, ফলশ্রুতিতে বাস আর সামনে আগাচ্ছে না। ওই শীতের রাতে তন্ময় চরম বিরক্তি দেখিয়ে বাসের ছাদে উঠে গেল এবং কাঁপতে কাঁপতে সাইকেল গুলো আবার ঠিক করে বেঁধে এলো। এছাড়া আমাদের আর কোন সমস্যা হয়নি। এবং একসময় আমরা আমাদের বান্দরবান শহরে আবিস্কার করলাম এবং এরসাথে আমরা আরো আবিষ্কার করলাম আমাদের সাইকেল গুলো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে, তাদের ফিটনেস সার্টিফিকেট হারিয়েছে। যাইহোক আমরা বাস থেকে সাইকেল গুলো নামিয়ে সেখানেই ঠিকঠাক করে ফেল্লাম। এরপর চাঁদের গাড়ির খোঁজে বেড়িয়ে পড়লাম। বান্দরবান থেকে আমাদের যেতে হবে কৈক্ষংঝিরি, সেখান থেকে সাঙ্গু নদী পাড়ি দিয়ে আমরা পৌঁছাবো রুমা বাজার, এবং সেখান থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু হবে কেওক্রাদং এর পথে।

যেহেতু ঈদের পরদিন তাই অনেক অভিযাত্রি এসেছেন, কেউ যাবেন কেওক্রাদং, কেউ তাজিনডং, কেউ অন্যকোথাও। কিন্তু সবাইকেই যেহেতু যেতে হবে রুমাবাজার, তো আমরা সবাই মিলে একটা চাদের গাড়ি ঠিক করে ফেল্লাম। বান্দরবানের সুন্দর দৃশ্য দেখতে দেখতে এবং দুঃসাহসিক গল্প শুনতে শুনতে পথচলাটা খুব একটা খারাপ হয়নি। তিনঘন্টা পর বেলা প্রায় ১১.০০ টার দিকে আমরা কৈক্ষংঝিরি এসে পৌঁছলাম। এখান থেকে আমাদের যেতে হবে রুমাবাজার। নৌকায় চড়ে অথবা পায়ে হেঁটে। নৌকার ঘাটে পৌঁছাতেই ওই এলাকার মাঝিরা নৌকার দাম তিন চারগুণ হাঁকতে থাকলো। কারণ আর কিছুই না আমাদের সাইকেলগুলো তাদের যতো মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাই হোক এরমধ্যে আমাদের সাইকেল আরোহিরা ঠিক করলো তারা সাইকেলে চড়েই যাবে। আর আমরা মানে ব্যাকআপ টিমের সদস্যরা নৌকায় করে যাওয়াই স্থির করলাম। নতুন একদল অভিযাত্রিদের সাথে আমরা ঝুলে পড়লাম নৌকায়। তারা সবাই ছিলেন সজ্জন প্রকৃতির চার্টাড আ্যকাউন্ট্যান্ট, সংখ্যায় চারজন (উচিমংদা, জীবনদা, হায়দার ভাই এবং হাজী ভাই) কাজ করছেন অক্সফাম নামক একটি এন.জি. ও তে। প্রথমবারের মতো এসেছেন বান্দরবান। সাঙ্গু নদীর উপর দিয়ে বয়ে চলতে থাকলাম আমরা। আর দেখলাম আধুনিকায়নের নামে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কৃত্রিমতায় বেঁধে ফেলার চেষ্টা চলছে সর্বত্র। এভাবে একসময় আমরা পৌঁছে গেলাম রুমা বাজার। যেখান থেকে আমরা রওয়ানা হবো কেওক্রাদং এর পথে। বেলা বাজে তখন প্রায় ১.০০ টা, আমরা রুমাবাজারে পা রাখার ঠিক পাঁচ মিনিটের মাথায় দেখা পেলাম আমাদের সাইকেল অভিযাত্রীদের। তারা সবাই কাদা বালুতে মাখামাখি, কিন্তু চোখগুলো কিছু করে ফেলার উত্তেজনায় চকচক করছে। "পথ কেমন" সালমানকে এই প্রশ্ন করতেই তার জবাব "চরম, এক্কেবারে ১০০% মজা"। "কখোনো আমি সাইকেলের ঘাড়ে, কখোনো সাইকেল আমার ঘাড়ে", তম্ময়ের জবাব। আর ইমরান ভাই আমাদের জানালেন এভাবেই অভিযান গুলো হয়, সবসময় সাইকেলে চড়তে হবে এমন কোন কথা নেই, আমাদের অভিযানের সাথে সবসময় সাইকেলগুলো থাকলেই সেটা সাইকেল অভিযান হিসেবে গণ্য করা যায়। এভাবে আড্ডার মধ্য দিয়ে হঠাৎ দেখি আমাদের দিকে একটি মোটর সাইকেল এগিয়ে আসছে। মোটর সাইকেলটা পরিচিত লাগতে না লাগতেই আমরা পরিচিত গলা পেয়ে চমকে উঠলাম! ! ! এযে মঞ্জু ভাই, আমরা সবাই হতবম্ব এবং তার রেশ কাটতে না কাটতেই তিনি আমাদের জানালেন তিনি ঢাকা থেকে সারারাত মোটর সাইকেল চালিয়ে পৌছালেন রুমা বাজার শুধু আমাদের সহযাত্রী হওয়ার জন্য। বাহ্ একেবারে সোনায় সোহাগা, আমাদের সঙ্গে এখন একটি যান্ত্রিক সাইকেলও চলে এসেছে। আমরা মোটামোটি ভাবে সাইকেলগুলো মেরামত করে দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম। আমাদের পরবর্তী গন্তব্য বগালেক। ঠিক হলো পুরো রাস্তা যেহেতু উঁচু নীচু তো আমরা সবাই যতটুকু সম্ভব সাইকেলে চড়বো আর বাকী রাস্তাটা হেঁটে হেঁটে চলবো এভাবে আমাদের একসাথে থাকাও হবে যেটা একটি অভিযানের পূর্ব শর্ত। ঠিক ৩.০০টার দিকে আমরা আমাদের যাত্রা শুরু করলাম। আমরা বগালেক যাওয়ার জন্য বেছে নিয়েছিলাম গাড়ি যাওয়ার রাস্তাটাকে।



সর্বশেষ আপডেট ( Thursday, 08 March 2007 )
 
< পূর্বে   পরে >