|
দ্বিচক্রযানে কেওক্রাডং অভিযান |
|
|
|
লিখেছেন মাসুক আহমেদ (Mashuk Ahmed)
|
|
Sunday, 11 February 2007 |
|
পাতা 4 মোট 5 অভিযান তৃতীয় পর্ব (০৪.০১.২০০৭) বেলা আনুমানিক ৮.০০ টার সময় কারবারির ছেলে সরেন এসে আমাদের ঘুম থেকে উঠালো। আমরা আমাদের অভিযানের সবচেয়ে কঠিন অংশের মুখোমুখি আজকে। আজ আমরা সাইকেলে করে কেওক্রাদং থেকে নামবো। এরমধ্যে আমরা আমাদের ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে সাইকেলগুলো ঠিকঠাক করে নামা শুরু করলাম এবং এক ঘন্টার মধ্যেই কেওক্রাদং থেকে দার্জিলিং পাড়ায় এসে পৌছালাম। কারবারির বাড়িতে সকালে তাদের ঐতিহ্যবাহী পিঠা বিন্নি চালের ভাত দিয়ে নাস্তা করলাম। এরপর পানি ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খাবার নিয়ে আমরা আমাদের পথচলা শুরু করলাম। বেলা আনুমানিক ১১.০০ টার সময় আমরা দার্জিলিং পাড়া থেকে রওয়ানা দিলাম, আর আমরা বগালেক পৌছালাম ২.০০ টার সময়। ষেখানে আমরা দুপুরের খাবার খেয়ে আর্মি ক্যাম্প এ রিপোর্ট করে ঠিক করলাম গাড়ি তে করে যাওয়ার। কারণ একে তো সময় কম আর তা ছাড়া সবারই ঢাকায় কাজ আছে তাই এই ব্যবস্থা। বগালেক থেকে ৩.০০ টার সময় রওয়ানা দিয়ে আমরা ৬.০০ টার সময় রুমা বাজার পৌঁছালাম। রুমা বাজার পৌছে হোটেল কেওক্রাদং এ রাতের থাকা নিশ্চিত করলাম। আর রাতে আমরা রান্না করে খেলাম আমাদের আরেক পাহাড়ি বন্ধু পাচুং এর বাসায়। এবার রাতে আমরা আনন্দ উল্লাস করে ঘুমাতে গেলাম আমাদের অভিযান সফল হয়েছে দেখে।
ঘরের টানে পথের বাঁকে সকাল ৮.০০ টার সময় ঘুম থেকে উঠে আমরা যারা নৌকায় যাবে তারা নৌকায় উঠে গেলাম অন্যান্যরা তাদের দ্বিচক্রযান গুলো নিয়ে বেড়িয়ে পড়লো। আমরা সবাই একসঙ্গে কৈক্ষংঝিরিতে এসে মিলিত হলাম। সেখান থেকে চাঁদের গাড়িতে করে যেতে হবে বান্দরবান শহরে, এবং সেখান থেকে যন্ত্রদানবে চড়ে ঢাকা। যান্ত্রিকতাকে পেছনে ফেলে এই ক'টা দিন আমাদের সবারই খুব ভালো কেটেছিলো। মনে হয়েছিলো একটা নতুন জীবনের স্বাদ পেয়েছি। কোন যান্ত্রিকতা নেই, নেই কোন মোবইল ফোনে অবিরাম মিথ্যাচার, ক্লাস অ্যাসাইনমেন্ট সব কিছূ পেছনে ফেলে নিখাদ সময় রসকে উপভোগ করার এমন সুযোগ যে আবার কবে আসবে কে জানে?
|
|
সর্বশেষ আপডেট ( Thursday, 08 March 2007 )
|