|
দ্বিচক্রযানে কেওক্রাডং অভিযান |
|
|
|
লিখেছেন মাসুক আহমেদ (Mashuk Ahmed)
|
|
Sunday, 11 February 2007 |
|
পাতা 3 মোট 5 অভিযান দ্বিতীয় পর্ব (০৩.০১.২০০৭) যেহেতু গতকাল রাতে আমাদের ওপর দিয়ে অনেক ঝড় গিয়েছে, তাই স্বভাবতই আমরা সবাই ঘুম থেকে উঠলাম একটু দেরি করে। এবং ঘুমথেকে উঠেই আমরা হাজারো প্রশ্নের মুখোমুখি হলাম, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী যে প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি আমরা হয়েছি সেটা হলো "পাগল নাকি তোমরা? মরতে মরতে বেঁচে ফিরেছ, এভাবে সাইকেল নিয়ে ওই পথ পাড়ি দেয় কেউ? যাই হোক এরকম দুঃসাহস আর দেখাতে যেওনা" ইত্যকার প্রশ্নের। আবার কেউ কেউ আমাদের বাহবা দিচ্ছিল, যা আমাদের সামনের পথগুলোকে এগিয়ে যাবার প্রেরণা দিচ্ছিল। এরমধ্যে আমরা আর্মিক্যাম্পে রিপোর্ট করে নাস্তা খেয়ে নিলাম। বেলা ঠিক ১১.০০ টার দিকে আমাদের পথচলা আবার শুরু  পাহাড়ি মানুষের নদী পার হওয়া হলো। যেহেতু আগের রাতের অভিজ্ঞতা আমাদের ভালো না এবং লারাম বম ভাই আমাদের নিরস্ত্র করলো তাই আমরা মোটর সাইকেল টি রেখে যাওয়াই মনস্থির করলাম। যদিও এতে মঞ্জু ভাই এর মন খারাপ হয়েছিলো সবচেয়ে বেশী। এবার আমরা পায়ে হাটা পথ দিয়েই যাওয়াটা মনস্থির করলাম। ঝিরি গুলো পার হওয়া ছাড়া আমাদের আর তেমন কোন ঝামেলা হয়নি। তবে সেটা খুব সহজ কাজও ছিলো না। একটি ঝিরি তে তো মুন তার সাইকেল নিয়ে পড়ে হাত পা ভেঙে ফেলতে গিয়েছিলো। সাগর ভাই আর মুন দুইবার করে পড়ে গেলেও কোন মেজর ইনজুরি হয়নি। মোটামোটি ভালোভাবেই আমরা দাজিলিং পাড়া পৌঁছালাম বেলা ৫.০০ টায়। সেখানে গিয়ে ওই পাড়ার কারবারির বাড়িতে থাকাটা মনস্থির করলাম। কারবারি আমাদের সম্মানে একটি মোরগ ধরে এনে দিলে সেটা দিয়েই আমরা আমাদের রাতের খাবার খেলাম।
এরমধ্যে আমরা বিশ্রাম নিয়ে মনস্থির করলাম রাতের বেলা আমরা কেওক্রাদং যাবো এবং সেখানেই থাকবো। রাত আনুমানিক ১১.০০ টার সময় আমরা আমাদের যাত্রা শুরু করলাম কেওক্রাদং এর পথে এবং ঠিক ১১.৪০ মিনিটে আমরা উঠলাম কেওক্রাদং এ। রাতে বাংলাদেশের ওপরে বসে আমরা হালকা ক্যাম্প ফায়ার করলাম। এবং সৌন্দর্য কে কৃত্রিমতায় বেধে ফেলার যে অপচেষ্টা শুরু হয়েছে তা দেখে দুঃখ করে ঘুমাতে গেলাম।
|
|
সর্বশেষ আপডেট ( Thursday, 08 March 2007 )
|