• Narrow screen resolution
  • Wide screen resolution
  • Auto width resolution
  • Increase font size
  • Decrease font size
  • Default font size
Member Area

নিসর্গ : বাংলার প্রকৃতি | Nishorga : Bangladesh Nature & Environment

Monday
Oct 06th
হোম arrow ভ্রমণ arrow দ্বিচক্রযানে কেওক্রাডং অভিযান
দ্বিচক্রযানে কেওক্রাডং অভিযান প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন মাসুক আহমেদ (Mashuk Ahmed)   
Sunday, 11 February 2007
আর্টিকেল সূচি
দ্বিচক্রযানে কেওক্রাডং অভিযান
অভিযান প্রথম পর্ব
অভিযান দ্বিতীয় পর্ব
অভিযান তৃতীয় পর্ব
ভ্রমণের ভিডিও ক্লিপ ও অন্যান্য

অভিযান প্রথম পর্ব (০২.০১.২০০৭)
আমরা বেড়িয়ে পড়লাম, পাহাড়ি উচু নীচু রাস্তা দিয়ে ছুটে চলেছি আমরা সবাই। আমাদের সবার সামনে ছিলেন মঞ্জু ভাই এবং তার পিছেই সাগর ভাই। বেলা ঠিক ৫.০০ টার দিকে আমরা একটি পাহাড়িদের পাড়া পেলাম, যেখানে তাদের কোন একটা উৎসব চলছিলো। সেখানে আমরা হালকা বিশ্রাম নিয়ে শুরু হলো আমাদের পথচলা। বেড়ার ফাঁকে কতগুলো অবাক চোখ আমাদের দিকে চেয়ে ছিলো নিস্পলক। পাগল নাহলে এই পথে সাইকেল দিয়ে কেউ যায়? এই ছিলো তাদের প্রশ্ন। এভাবে হাজারো পলকহীন চোখ পিছে ফেলে আমরা আস্তে আস্তে লোকালয় ছেড়ে জনমানবহীন প্রান্তরে চলে আসতে লাগলাম। আর একটু একটু করে আমাদের চোখে ধরা দিতে থাকলো পাহাড়ি পথের সৌন্দর্য গুলো। আমরা পাহাড়ী সূর্যাস্তের সৌন্দর্য দেখলাম এবং আসতে আসতে শীত জেঁকে বসার আগেই আমরা শীতের কাপড় গুলো পড়ে ফেললাম। আর আমাদের অবিরাম পথচলা শুরু হলো। পথের ক্লান্তি যখন আমাদের গ্রাস করতো তখন পথ
যাত্রা শুরু
যাত্রা শুরু
দেখাতো আমাদের চাঁদ। সেই চাঁদের আলো আমাদের নতুন করে পথচলার প্রেরণা যোগাত। কখনো সাইকেল কখনো মোটর সাইকেলে চড়ে অথবা সেগুলো ঠেলে আমরা পথ চলতে থাকলাম। একটা সময় আমাদের সঙ্গে থাকা পানির সবগুলো বোতল শেষ হয়ে গেলো, এবং আমরা পড়লাম মহা বিপদে। পানি শেষ হওয়ার পর আস্তে আস্তে আমাদের শক্তির পরিমাণও কমতে থাকলো। এরমধ্যে মড়ার ওপর খাড়ার ঘায়ের মতো ঘন্টাখানেক পথ চলার পর আমরা আমাদের আবিষ্কার করলাম একটি ৮০ ডিগ্রি ঢাল এর সামনে, পুরো রাস্তা বালুতে পরিপূর্ণ। স্বাভাবিক ভাবে হেঁটে ওঠাই যে রাস্তায় কষ্টকর সেখানে আমাদের উঠতে হবে সাইকেল নিয়ে। শুধু সাইকেল না মোটর সাইকেলও সঙ্গে নেই একফোঁটা পানি। যাই হোক যেভাবে হোক আমাদের তো উঠতে হবেই, কারণ বগালেক ছাড়া সামনে আর কোন লোকালয় নেই। সবাই মিলে হাচরে পাচরে সাইকেল নিয়ে প্রথমে উঠলাম। ওখানে গিয়েই মুন এবং নাযাম ভাই রাস্তার পাশে শুয়ে পড়লো বাকিরা সবাই আবার ওই খাড়া ঢাল বেয়ে নিচে নামলাম এবং পাঁচজন মিলে ঠেলে মোটর সাইকেলটাকে ওপরে ওঠালাম, এরমধ্যে নাযাম ভাই উঠে সামনে কোন লোকালয় এর খোজ পাওয়া যায় কিনা দেখতে গেলো, এবং আমরা সবাই সেই রাস্তার পাশে শুয়ে বসে পড়লাম, বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকুও যখন ছেড়ে দিয়েছি তখন নাযাম ভাই এসে উপস্থিত হলো আরো দুজনকে সঙ্গে নিয়ে তারা বললো আর পাঁচ মিনিট হাটলেই বগালেক। এভাবে অমানুষিক শ্রমের মাধ্যমে আমরা রাত ১১.৪০ মিনিটে এসে পৌঁছলাম বগালেক। একটু নিরাপত্তা আর মানুষের সান্নিধ্য যে কতটুকু আরাধ্য হতে পারে বুঝতে পেরেছিলাম সেই রাতে প্রথম। উচিমংদার চীড়া আর গুড় দিয়ে আপ্যায়ন আর লম্বাচুলের হায়দার ভাই এর "ওয়েলকাম টু বগালেক" কথাটা আমাদের নতুন করে বেঁচে ওঠার প্রেরণা দিয়েছিলো এই কথাটা স্বীকার করতে আজ আর কোন দ্বিধা নেই। আর আরও পেয়েছিলাম বগালেককে চাঁদের আলোয় তার অপরুপ সাজে। সবাই ইচ্ছামতো পানি খেয়ে তাড়াতাড়ি হাতমুখ ধুয়ে সাইকেলগুলো ভালো করে বেধে তাঁবু খাটিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।



সর্বশেষ আপডেট ( Thursday, 08 March 2007 )
 
< পূর্বে   পরে >