প্রকৃতি সংবাদ
আগুনে পুড়ছে সুন্দরবন | আগুনে পুড়ছে সুন্দরবন |
|
|
| লিখেছেন বিডিনিউজ২৪.কম | |
| Monday, 02 April 2007 | |
|
আপডেট ১: বাগেরহাট, মার্চ ৩১ (বিডিনিউজ২৪.কম)- সুন্দরবনের পঁচা কোড়ালিয়া এবং নাপিতখালী এলাকায় এখনো আগুন নিভেনি। বনের অন্তত পাঁচটি অংশে রোববার দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
প্রধান বন সংরক্ষক ওসমান গণি রোববার সাংবাদিকদের বলেন, বৃষ্টি ছাড়া সুন্দরবনের আগুন নেভানো কঠিন। এভাবে চললে আগুন নিভতে আরো পাঁচ··সাত দিন লেগে যাবে।
পচা কোড়ালিয়া ও নাপিতখালী বিলের আগুন দেড় মাইল দূরের একটি খাল থেকে পানি নিয়ে নেভানোর চেষ্টা করছেন দমকল কর্মী, তিন শতাধিক গ্রামবাসী এবং বন বিভাগের কর্মীরা। তবে খাল থেকে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। শনিবার পূর্ণিমা থাকায় আগুন নেভানোর জন্য কিছু পানি পাওয়া গেলেও রোববার খালে পানি ছিল অনেক কম।
আগুনের ক্ষতি নিরুপনে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। আগুনের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে প্রধান বন সংরক্ষক ওসমান গণি রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের জানান, আগুনে দশ/বারো একরের মতো বনভূমি পুড়ে গেছে। অবশ্য উপস্থিত সাংবাদিকরা এ সময় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি দাবি করলে তিনি স্বীকার করেন বিষয়টিতে তার পরিষ্কার ধারণা নেই।
রোববার দুপুরে বাগেরহাটের রাজাপুর শরণখোলা উপজেলার রাজাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীদের অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন করা হয়। এ সময় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক, সুন্দরবনের প্রধান বন সংরক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার পূর্ণিমা থাকায় জোয়ারের সময় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দেড় মাইল দূরে আব্দুল্লার ছিলায় (খালে) মরাভোলা নদীর পানি আটকে সেই পানি পাম্পের মাধ্যমে ঘটনাস্থলে নেয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শুকিয়ে যাওয়া পচা কোড়ালিয়া বিলে গত ১৯ মার্চ আগুন জ্বলতে দেখা যায়অ ২৭ মার্চ আগুন ধরে পার্শ্ববর্তী নাপিতখালি বিলে।
আগুনে বনের বিশাল এলাকা জুড়ে সুন্দরী গাছসহ সিংড়া, বলা, কেয়াকাটা, নোনা ঝাউ ইত্যাদী বিভিন্ন গাছ ও লতা··গুল্ম পুড়ে গেছে।
সুন্দরবন বিভাগের বন সংরক্ষক শেখ মিজানুর রহমান এবং সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম শহিদুল ইসলাম জানান, তাদের নেতৃত্বে বনকর্মীরা ২১ মার্চ পচা কোড়ালিয়া বিলের আগুন নিভিয়ে ফেলেছিল। এরপর ২৩ মার্চ আবার ওই এলাকায় আগুন দেখা গেলে আবারও নেভানো হয়। কিন্তু ২৭ মার্চ পার্শ্ববর্তী নাপিতখালি বিলে আবার আগুন দেখা যায়।
মূল খবর:
গত মঙ্গলবার রাতে সুন্দরবনের ওই এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রায় তিনদিন ধরে জ্বলা আগুনে ত্রিশ একরের মতো বন পুড়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানালেও বন বিভাগ বলেছে ক্ষতিগ্রস্ত বনভূমির পরিমাণ তিন একর।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম শহীদুল্লাহ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানান, সুন্দরবনের পরিবেশ এ সময় উষ্ণ। সম্ভবত মৌয়াল বা বাওয়ালিদের ফেলে দেওয়া বিড়ি সিগারেট থেকে আগুন ধরেছে।
আগুনে পঁচাকোড়ানিয়া ও নাপিতখালি বিল অঞ্চলের সুন্দরী, সিংড়া, বলা, কেয়াকাঁটা, নোনাঝাউসহ বিভিন্ন জাতের গুল্ম পুড়ে গেছে। লোকালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বনের আগুন নেভাতে বাগেরহাট ও মোরেলগঞ্জ ফায়ার ব্রিগেডের দুটি ইউনিট চেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয় বনকর্মীদের পাশাপাশি গ্রামবাসীরাও যোগ দিয়েছেন তাদের সঙ্গে।
ঘটনাস্থল থেকে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো· জাকির হোসেন শুক্রবার বিডিনিউজ২৪.কমকে জানান, "পানি সংকটের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। পাশের ভোলা নদী নাব্যতা হারানোয় সেখানে পানি কমে গেছে। এছাড়া পরিবেশ শুষ্ক হওয়ায় আগুন নেভানো কঠিন হয়ে পড়ছে।"
তিনি আরো জানান, পরিবেশ আর্দ্র রাখতে বনের বিভিন্ন অংশে ৩০ ফুট গভীর ২২টি কূপ খনন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে একটি শ্যালো মেশিনে পানি তুলে কূপ গুলোতে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া ভোলা নদীর মোহনা থেকে জোয়ারের পানি সংরক্ষণ করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল।
আগুন পরোপুরি নিভতে শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে জানান জাকির হোসেন।
অন্যদিকে, বিভাগীয় বনরক্ষক শেখ মিজানুর রহমান দাবি করেন, "আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে এবং প্রায় নিভে গেছে।"
এই নিয়ে গত তিন বছরে সুন্দরবনে এই নিয়ে মোট আটবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।
এর আগে গত ১৯ মার্চ পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের পচাঁ কোরালিয়া এলাকায় আগুন লাগে। এতে এক থেকে দেড় হাজার টাকার ক্ষতি হয় বলে তখন বনবিভাগ জানিয়েছিল। মন্তব্যগুলো (0)
![]() মন্তব্য লিখুন
|
|
| সর্বশেষ আপডেট ( Monday, 02 April 2007 ) |
| < পূর্বে | পরে > |
|---|