প্রকৃতি সংবাদ
টাঙ্গুয়ার হাওরে ফিরে এসেছে প্রাণের স্পন্দন | টাঙ্গুয়ার হাওরে ফিরে এসেছে প্রাণের স্পন্দন |
|
|
| লিখেছেন নয়াদিগন্ত রিপোর্ট | |
| Monday, 05 March 2007 | |
|
ঢাকা, মার্চ ৫, ২০০৭: প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ দেশের অন্যতম জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওরে আবার ফিরে এসেছে প্রাণের স্পন্দন। বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জের প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের টাঙ্গুয়ার হাওরে বর্তমানে ৩০০ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। গাছ ও জলজ উদ্ভিদ রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ শতাধিক প্রজাতির। এ বছর পাখি গণনাকালে পাখিবিশারদরা ১১২ প্রজাতির পাখির সন্ধান পেয়েছেন। যার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার। এর ভেতর বিপন্ন প্রজাতির অনেক পাখিও ফিরে এসেছে। গত তিন বছর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণের কারণে সেখানে জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। ঘটেছে পাখি, মাছ ও উদ্ভিদের বিস্তার। ![]() টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রাণের স্পন্দন: ছবি- নয়াদিগন্ত এফইজেবি ও আইইউসিএন’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে এফইজেবি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, আইইউসিএন’র কান্ট্রি ডিরেক্টর বিশিষ্ট বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত, উপকূলীয় জলাভূমি জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও সুনামগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক মোঃ জাফর সিদ্দিক, পাখি বিশেষজ্ঞ ড. রোনাল্ড হালদার, ড. মনিরুল খান, ক্যাপ্টেন এনাম তালুকদার, সিরাজুল হোসেন প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার মডেল হিসেবে বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের মতো অন্যান্য হাওর-বাঁওড় ও খাল-বিল প্রশাসনিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। এসব হাওর-বাঁওড় ও খাল-বিলের জীব-বৈচিত্র্য ও বিপুল পরিমাণ মতস্য এবং জলজসম্পদ রক্ষা করতে না পারলে সারাদেশের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়তে বাধ্য। এমনকি অদূর ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক মিঠা পানির মাছের বংশ বৃদ্ধিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ড. আইনুন নিশাত বলেন, প্রকৃতির জীব ও উদ্ভিদ একে অপরের পরিপূরক। উদ্ভিদের বৈচিত্র্যপূর্ণ অবস্থান ছাড়া প্রাণীর জীবন ধারণ অসম্ভব। তিনি বলেন, দেশে সার্বিকভাবে জীব-বৈচিত্র্যের উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এখনো আমাদের অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা রয়ে গেছে। পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতরা প্রভাবশালী। নিরুপদ্রব এবং ক্ষতিকর নয়, এমন পাখির বংশ বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। ড. রোনাল্ড হালদার টাঙ্গুয়ার হাওরে পাখি পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগী ভূমিকার কারণে এ হাওরের স্বাভাবিক প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রতিবছরই বিপুলসংখ্যক অতিথি পাখি আসছে। এখন এখানে আমাদের দেশীয় পাখির সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। ড. মনিরুল খান বলেন, অনেকের ধারণা, অতিথি পাখি হাওর-বাঁওড়ে এসে ক্ষতি করছে, এমন ধারণা ঠিক নয়। তিনি বলেন, যেসব পাখি আসে এদের মধ্যে দু’তিন প্রজাতি ছাড়া সবাই নিরামিশ খাদ্য খায়। সভাপতির বক্তৃতায় এফইজেবি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে টেকসই পরিবেশ উন্নয়নে প্রশাসনকে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে।
সূত্র: দৈনিক নয়া দিগন্ত, ৫ মার্চ, ২০০৭ মন্তব্যগুলো (1)
![]() লিখেছেন এনায়েত, March 05, 2007
এমন ভাল খবন শুনতে সবার মত আমারও ভাল লাগছে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশে প্রকৃতির জন্য কাজ হচ্ছে ভাবতেই মনটা প্রশান্তিতে ভরে উঠল।
মন্তব্য লিখুন
|
|
| সর্বশেষ আপডেট ( Monday, 05 March 2007 ) |
| < পূর্বে | পরে > |
|---|