• Narrow screen resolution
  • Wide screen resolution
  • Auto width resolution
  • Increase font size
  • Decrease font size
  • Default font size
Member Area

নিসর্গ : বাংলার প্রকৃতি | Nishorga : Bangladesh Nature & Environment

Monday
Oct 06th
যখন সন্ধ্যা নামে ডেট্রয়েটের তীরে প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন প্রকৃতিপ্রেমিক   
Monday, 31 December 2007
আজ শীত আরো একটু জাঁকিয়ে বসেছে। বাতাসের বেগ কম। ম্যাপল গাছেরা সবগুলো পাতা হারিয়ে শান্ত দাঁড়িয়ে আছে। ডেট্রয়েট নদীর সজুজাভ জল ছলাৎ ছলাৎ করে আছড়ে পড়ছে আমার পাদদেশে। ঐপাড়ে আমেরিকার ডেট্রয়েট। জেনারেল মটরস এর হেডঅফিস দেখা যায় বহুদূর থেকে। নভেম্বর ৭, ২০০৭
আজ শীত আরো একটু জাঁকিয়ে বসেছে। বাতাসের বেগ কম। ম্যাপল গাছেরা সবগুলো পাতা হারিয়ে শান্ত দাঁড়িয়ে আছে। ডেট্রয়েট নদীর সজুজাভ জল ছলাৎ ছলাৎ করে আছড়ে পড়ছে আমার পাদদেশে। ঐপাড়ে আমেরিকার ডেট্রয়েট। জেনারেল মটরস এর হেডঅফিস দেখা যায় বহুদূর থেকে। নদীতে একটা দু'টা জলযান এদিক থেকে ওদিকে চলছে ধীর লয়ে। এ্যম্বাসেডর ব্রীজের নীচে দাঁড়িয়ে নদীর কথা ভাবতে থাকি-- কতকাল থেকে বয়ে চলেছে কানাডা আর আমেরিকার মাঝখান দিয়ে!

ক'দিন আগেও সূর্য ডুবত সোজাসুজি, নদীর ঐপাড়ে। এখন আরো বেশ খানিকটা বাঁয়ে হেলে অনেকটা নদীর উপরেই ডুবে যায়। সূর্যটা এখন অল্পেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সাড়ে পাঁচটা হতে হতেই বিদায়ের আয়োজন তার। দিন এখন তাই অনেক ছোট। আমি বসে আছি শীতের সন্ধ্যায় সূর্য ডোবা দেখব বলে। হ্যাট পড়া হয়নি, কানে একটু একটু ঠান্ডা লাগা শুরু হয়েছে। গ্লাভসও নামাতে হবে শীঘ্রই। ঠান্ডায় মাঝে মাঝেই গা শিরশির করে উঠছে। হাতজোড়া জ্যাকেটের পকেটে ঢুকিয়ে আমি গা টানটান করি। অনেক দূরে একটা বড় জাহাজ, মনে হয় এদিকেই আসছে। ভেঁপু বেজে উঠল। সেই শব্দে নগরবাড়ি ফেরি ঘাটের কথা মনে পড়ে গেল। যমুনা সেতু তখনো হয়নি। ঢাকা থেকে বগুড়া যাওয়ার পথে অসংখ্যবার সেপথ মাড়িয়েছি। ঘাটের হোটেলে বসে ডাল আর নদীর মাছ দিয়ে ভাত কী অসাধারণই না লাগত!

সন্ধ্যা নামছে। নদীর উপর দিয়ে কানাডা-রাজ-হাঁসের দল খইয়ের-মালা হয়ে উড়ে গেল। আর কদিন পরেই এদের দেখা মিলবেনা, চলে যাবে দূরে কোথাও, শীত থেকে বাঁচতে। সারাটা আকাশ নীলচে-ধূসর রঙে ছেয়ে গেল। সূর্য ডুবছে। শীতের সূর্য। মলিন, অবসন্ন যেন লুকিয়ে পড়লেই বেঁচে যায়। আমেরিকানরা নদীর পাড় জুড়ে সব শিল্পকারখানা বসিয়েছে। যোগাযোগের সুবিধাই সম্ভবত মূল কারণ। কারখানার চিমনী থেকে সাদা ধোঁয়া কুন্ডলী পাকিয়ে উঠে সন্ধ্যার আকাশে মিলিয়ে যাচ্ছে। সহসাই সবগুলো বাতি জ্বলে উঠলো, কিংবা আগেই জ্বালানো ছিল এখন স্পষ্ট হয়ে উঠল। আমি পানির কাছাকাছি নেমে এসে সিমেন্টের সিঁড়িতে বসি। ওপাড়ের বাতিগুলি পানিতে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করেছে, আর সেগুলো মোমের নরম আলোর মত ঢেউয়ের তালে তালে কেঁপে কেঁপে উঠছে। তারপর আঁধার নেমে এল। সবকিছুকে কেন যেন পদ্মাপাড়ের কোন এক বন্দরে দিবাবসানের মত মনে হল। শেষ হল একটি দিনের। আর আমি ফিরে এলাম প্রতিদিনের ব্যস্ততায়।

মন্তব্যগুলো (1)Add Comment
...
লিখেছেন Manojkumad D Girish, January 10, 2008
বেশ কাব্যিক বর্ণনা, ভাল লাগল৤ বিদেশের এরকম বর্ণনা পড়লে সে দেশ নিয়ে কিছুটা ছবি তো মনে গাঁথা হয়৤ লেখক আরও লিখুন আমরা পড়ে আনন্দ পাই৤
মনোজকুমার দ. গিরিশ ১০/০১/২০০৮ কোলকাতা

মন্তব্য লিখুন

security code
Write the displayed characters


busy
সর্বশেষ আপডেট ( Monday, 31 December 2007 )