|
লিখেছেন এনায়েতুর রহীম
|
|
Wednesday, 12 April 2006 |
চিংকারা (Chinkara) নামটি হঠাৎ করেই এখন সংবাদপত্রের পাতায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আর তার সাথে জড়িয়ে গেছে বলিউডের খ্যাতনামা অভিনেতা সালমান খানের নাম। সম্প্রতি যোধপুরের এক আদালত ভারতের এই অভিনেতাকে বিরল প্রজাতির চিংকারা হরিণ শিকারের অভিযোগে অভিযুক্ত করে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে।
 Chinkara. Photo Neeraj Mishra চিংকারা গ্যাজেলি (Gazelle) প্রজাতির অন্তর্ভূক্ত এক প্রকার হরিণ। ইংরেজী নাম Indian Gazelle. বিজ্ঞান সম্মত নাম Gazella gazelle. এদের বিস্তার দক্ষিণ এশিয়ার তৃণ ও মরু এলাকা - প্রধাণত ভারত, পাকিস্তান এবং ইরানের কিছু অঞ্চলে। পূর্ণবয়স্ক চিংকারা উচ্চতায় প্রায় ৬৫ সে.মি. এবং ওজন প্রায় ২৩ কিলোগ্রাম। গ্রীস্মকালে গায়ের রঙ উজ্জ্বল বিস্কিট রঙের অথবা লালচে বাদামী। পশম চকচকে ও মসৃণ। পেট সাদা। শীতকালে সাদা পেট আর গায়ের রঙে অপূর্ব কন্ট্রাস্ট তৈরী হয়। মুখের পাশে চেস্টনাট রঙের স্ট্রাইপ যার দুই পাশে সাদা রঙের বর্ডার আছে। পুরুষ ও স্ত্রী উভয়েরই শিং আছে। আকার প্রায় ৪০ সে.মি.। তবে শিং এর আকার এদের আবসস্থলভেদে ছোট বা বড় হয়। পাহাড়ী স্ত্রী চিংকারার শিং আকারে পুরুষের তুলনায় ৭০% ছোট। পুরুষ চিংকারার শিং পুরু এবং চারপাশে এক ধরনের রিং আছে। স্ত্রী চিংকারার শিংএ রিং নেই।
চিংকারা অত্যন্ত লাজুক এবং জনবসতি এড়িয়ে চলে। সাধারণত একা বিচরণ করে তবে মাঝে মাঝে সর্বোচ্চ ৩-৪ টি একত্রে দেখা যায়। জীবনধারণের জন্য বিশেষ অভিযোজনে সক্ষম এই প্রাণি খুবই সামান্য পরিমাণ পানি খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। আর সেকারণেই মরু অঞ্চলেও এদের দেখতে পাওয়া যায়। এরা খুব সামান্য পানির উৎস যেমন শিশির কণা, গাছপালার রস ইত্যাদি থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি সংগ্রহ করতে পারে।
বর্তমানে প্রাণিটি অত্যন্ত বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় হিসেবে চিহ্নিত। খেলাচ্ছলে নির্বচারে শিকারের কারণে এদের সংখ্যা দিন দিন কমছে। সৃস্টিকর্তা আমাদের দিয়েছেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্য, আর এই সব প্রাণিকূল আর তরুলতা ধারণ করে আছে সেই সৌন্দর্য্য। এদের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিবর্ধনের দায়িত্ব আজ ও আগামী প্রজন্মের।
Photo courtesy: Neeraj Mishra http://www.indianwildlifeimages.com/. Published with permission.
|
|
সর্বশেষ আপডেট ( Sunday, 25 February 2007 )
|