|
লিখেছেন এনায়েতুর রহীম
|
|
রবিবার, 26 অক্টোবর 2008 10:28 |
|
পেইন্টেড টার্টল (Painted turtle) নিয়ে যখন লেখার চিন্তা করি তখন খুজেঁ দেখি এর কোন বাংলা নাম নেই। এর নাম দেয়া যেতে পারে নকশী কাছিম অথবা রঙ্গিলা কাছিম*। অন্য সব সরীসৃপের মতই কাছিম বা কচ্ছপ শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী। যার মানে হলো এরা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা।
যার ফলে পরিবেশের তাপমাত্রা কমে গেলে এদেরকে নির্ভর করতে হয় সূর্যের আলোর দয়ার উপর। শীত এলে বা শীত না এলেও মাঝে মাঝেই এদের দেখা যায় পানির উপর উঠে গা শুকাতে। ব্যাপারটা শীতের বেলা বেশী হয় কারণ তখন পানির নিচে তাপমাত্রা যথেষ্ট পরিমান কমে যায়। আর তাই গা গরম করতে এরা উপরে উঠে আসে।
আমার ক্যামেরার লেন্স ছোটখাট। তাই দূর থেকে এদের ভাল ছবি তোলা অসম্ভব। বাধ্য হয়েই বেছে নিতে হল ধৈর্যের পরীক্ষা। অজিবওয়ে নেচার পার্কে ঢুকেই সরাসরি চলে যাই ট্রেইল ছেড়ে, কিছুটা জংলা পথ ধরে জলাধারের পাশে।
লম্বা ঘাসের সারি আর নাম না জানা সব জংলি গাছ-গাছালিতে ভরা জলাশয়ের পাড়। সহসাই কারো পা পড়েনি এখানে তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। দুপুর শুরু হয়েছে মাত্র। গাছের পাতার ফাঁকে সারা বনে আলোছায়ার নাচন। আমি নি:শব্দে এগিয়ে যাই সেদিকে।
কাছিমেরা সাধারণত আধা-ডোবা গাছের খন্ড বা এমন কিছুর উপরে উঠে রোদ পোহায়। মানুষের আগমন বা নড়াচড়া টের পেলেই আবার পানিতে নেমে পড়ে। তাই খুব সাবধানে পা ফেলে এগোই। একটু দূরেই দেখি দুটোকে। আমার থেকে আনুমানিক ২০ গজের মত দূরত্বে। আমার যতটা বিদ্যা তাতে এটুকু জানি কাছিম রং ততটা চেনেনা যতটা বোঝে মুভমেন্ট। তাই দাঁড়িয়ে না থেকে ক্রল করে এগুতে থাকি আর একটা একটা শট নেই। বলা তো যায়না কখন আবার পানিতে ডুব মারে। এভাবে প্রায় ১০ গজের মধ্যে চলে আসি। আরো কয়েকটা ছবি নেই। প্রিভিউ দেখি কিন্তু মন ভরেনা। আরো কাছে যেতেই হবে। ক্রল করে আরেকটু কাছে যেতেই ও দুটো ঝুপ করে নেমে যায় পানিতে। যাহ, সব গেলো। তার পরে শুরু হয় অপেক্ষার পালা। এই সুযোগে পানির ৪-৫ গজের মধ্যে চলে যাই। চুপচাপ ওভাবেই উপুর হয়ে শুয়ে থাকি আর ভাবতে থাকি মুক্তিযুদ্ধের কথা। মুক্তিবাহিনীর হাতে শুধু ছিল রাইফেল আর আমার হাতে ক্যামেরা। হা হা... একসময় ওটা ফিরে আসে। আধা-জাগা কাঠের গুঁড়িটার উপরে আস্তে আস্তে উঠে বসে। আমি ঠিক দেখতে পাচ্ছি ওটা ঘাড় ঘুরে আমাকে দেখছে। কিন্তু আমি একদম নড়ছিনা। বেশ কয়েকটা ছবি তুলে নেই-- ভিন্ন ভিন্ন এক্সপোজারে।
নকশী কাছিম বা রঙ্গিলা কাছিম যাই বলিনা কেন, এদের শরীর নিপূন হাতে রং করা। পেটের নিচের দিক হলুদ তার উপর চারকোনাকার হলুদের মাঝে কালো নকশা করা। পিঠের শেল শক্ত, জলপাই রঙের। শেলের চারপাশে লাল রঙের নকশা। গলার উপর লম্বা-লম্বি হলুদ রঙের স্ট্রাইপ মুখের দিক থেকে নেমে এসে শরীরের ভেতর ঢুকেছে। মাঝারি লেজ, লালচে হলুদ স্ট্রাইপ সেখানে। পা কালো রঙের এবং নখ যুক্ত। এরা প্রায় সবকিছুই খায়। কীট-পতঙ্গ থেকে শুরু করে, লেটুস, গাজর, লাউ, ইত্যাদি নানা রকমের ফল এরা খায়। * কৃতজ্ঞতা ধূসর গোধূলী প্রথম প্রকাশ সচলায়তনে
|
|
সর্বশেষ আপডেট ( শনিবার, 08 নভেম্বর 2008 17:58 )
|