• Narrow screen resolution
  • Wide screen resolution
  • Auto width resolution
  • Increase font size
  • Decrease font size
  • Default font size
Member Area

নিসর্গ : বাংলার প্রকৃতি | Nishorga : Bangladesh Nature & Environment

Monday
Oct 06th
হোম arrow প্রবন্ধ arrow আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস ২০০৬
আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস ২০০৬ প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন Muntasir Mamun   
Thursday, 28 December 2006
আর্টিকেল সূচি
আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস ২০০৬
প্রয়োজন সমন্বিত উদ্দ্যোগ
পর্বত এবং পার্বত্য অঞ্চলসমূহ জৈব বৈচিত্রের স্টোর হাউজ হিসেবে বিবেচিত কেননা এই অঞ্চল সমূহই পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক জৈব বৈচিত্রের ধারক। পার্বত্য জীব বৈচিত্র ভূমির গঠন-প্রকৃতি নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সে স্থানের আবাসন, চাষবাস সহ সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা এবং বিশুদ্ধ পানীয় জল, খাদ্য, কাঠ, ঔষধি বৃক্ষরাজি থেকে ভেষজ ঔষধ সরবরাহ
Image
নি:সঙ্গ পার্বত্য নদী
  করে থাকে। তবে সময়ের সাথে সাথে পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে সেখানকার জীব বৈচিত্রের মধ্যে গড়ে ওঠা নিবিড় সম্পর্কের মধ্যে ফাটল দেখা দেয় স্থানীয় জৈব উপাদানগুলোর যত্রতত্র ব্যবহারের ফলে। আর তাই জৈব বৈচিত্র হারিয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভবনার সামনে আজ অনেক পার্বত্য অঞ্চল; এ সমস্যা থেকে আমরা তথা আমাদের পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসীরাও যে দূরে আছে তা নয়। তবে যদি জীব বৈচিত্র রক্ষা করার ব্যাপারের সবাইকে উৎসাহ দেয়া যায় তবে এ সমস্যা থেকে সমাধানের একটি টেকসই সমাধান বের করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র উদ্যোগের পূর্বে বৃহৎ উদ্যোগের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে আগে। যেমন প্রটেক্টেড এরিয়া তৈরি, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষা কার্যে অনুদান (Payment for Environmental Services (PES)   নিশ্চিতকরণ এই বিষয়াদি জৈব বৈচিত্র রক্ষাকার্যে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে।

আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে বৈচিত্র রক্ষার কার্যক্রম এখনই শুরু হওয়া প্রয়োজন কেননা অপরিকল্পিত ও আকস্মিকভাবে বাণিজ্যিক কাজে গড়ে ওঠা তামাকের চাষ পার্বত্য অঞ্চলের স্বাভাবিক চাষের ক্ষেত্রকে যেমন সংকীর্ণ করে ফেলছে ঠিক তেমনি স্থানীয় জৈব বৈচিত্রে বিরুপ প্রভাব ফেলছে। আবার একই ভাবে যে জমিতে হুলুদ (মশলা) চাষ হয়ে আসছিল বিগত বছরগুলোতে, স্থানীয় বাজারে এর তেমন কাটতি না থাকা এবং শহরাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহে সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগের অভাবে এর বিপনন ব্যহত হওয়ার কারণে এই ধরনের ঔষধি ফসলের চাষ না করে বাণিজ্যিকভাবে তামাকের চাষ করা হচ্ছে। এর সুদূর প্রসারী সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যুগ যুগ ধরে সে পরিবেশে ওষধি গাছগুলোতে যে ধরনের পোকামাকড়, কীট পতঙ্গ বাস করত, তাদের বিনাশ হয়ে পড়ছে অনিবার্য আর জৈব বৈচিত্রের ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে ঠিক এভাবেই। আবার যদি আমরা দেখি উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত রাস্তা নির্মাণের নামে অমিতব্যয়িভাবে বৃক্ষ নিধন এবং পাহাড় কাটার ফলে স্থানীয় পরিবেশে পড়ছে বিরুপ প্রতিক্রিয়া যদিও নির্মানাধিন রাস্তা যত না বেশি স্থানীয় অধিবাসীদের ভাগ্যান্নয়নের কাজে লাগছে তার চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে নিধনকৃত বৃক্ষ সরবরাহে। এছাড়া আদ্দিকালের পুরোনো জুম চাষ পদ্ধতির কারণে মওসুমগুলোতে পাহাড়ের গাছপালা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে চাষযোগ্য জমি তৈরির কারণেও জৈব বৈচিত্রে পরিবর্তন আসছে অতি দ্রুত।

আমাদের প্রক্ষাপটে মাত্র একটি বিষয়কে সাময়িক ভাবে তুলে ধরা হলেও আরও অনেক খাতে আমাদের পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার পথে ক্রমশই এগিয়ে যাচেছ। এখনই যদি এর প্রতিকার করা সম্ভব না হয় তো আমাদের এই তিনটি পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী অধিবাসীরাও তাদের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলবে। এতে যেমন ক্ষুদ্র জাতিস্বত্তা গুলো হুমকির মুখে পড়বে তেমনি পার্বত্য অঞ্চলে সবেমাত্র গড়ে ওঠা পর্যটন সূচনাতেই মুখ থুবড়ে পড়তে পারে এবং আমরা হারিয়ে ফেলতে পারি আমাদের অনাবিল সৌন্দর্যের পার্বত্য ভূমি। ব্যপারটা অনুমেয় ঠিক এভাবে, যেভাবে কাটা হচ্ছে পাহাড়, যেভাবে উজাড় হচ্ছে বন, যেভাবে হারিয়ে যাচ্ছে জাতিস্বত্তা সেটা কি সেই ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠির প্রতি আমাদের অবিচার হবে না? আগত ভবিষৎ প্রজন্মের কাছে আমরা কি রেখে যেতে পারব একটি অনাবিক সুন্দর পরিবেশ? হোক না সেটা শুধুই এই তিনটি পার্বত্য অঞ্চলে তাতেই বা ক্ষতি কি।

তথ্য সূত্র :

http://www.fao.org/mnts/intl_mountain_day_en.asp

Tourism and Biodiversity : Mapping tourism global footprint



আরও তথ্য:

http://www.kewkradong.com

মন্তব্যগুলো (0)Add Comment

মন্তব্য লিখুন

security code
Write the displayed characters


busy

সর্বশেষ আপডেট ( Tuesday, 29 May 2007 )
 
< পূর্বে

এ ধরনের লেখা