| আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস ২০০৬ |
|
|
| লিখেছেন Muntasir Mamun | ||||
| Thursday, 28 December 2006 | ||||
পাতা 2 মোট 2 পর্বত এবং পার্বত্য অঞ্চলসমূহ জৈব বৈচিত্রের স্টোর হাউজ হিসেবে বিবেচিত কেননা এই অঞ্চল সমূহই পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক জৈব বৈচিত্রের ধারক। পার্বত্য জীব বৈচিত্র ভূমির গঠন-প্রকৃতি নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সে স্থানের আবাসন, চাষবাস সহ সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা এবং বিশুদ্ধ পানীয় জল, খাদ্য, কাঠ, ঔষধি বৃক্ষরাজি থেকে ভেষজ ঔষধ সরবরাহ ![]() নি:সঙ্গ পার্বত্য নদী আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে বৈচিত্র রক্ষার কার্যক্রম এখনই শুরু হওয়া প্রয়োজন কেননা অপরিকল্পিত ও আকস্মিকভাবে বাণিজ্যিক কাজে গড়ে ওঠা তামাকের চাষ পার্বত্য অঞ্চলের স্বাভাবিক চাষের ক্ষেত্রকে যেমন সংকীর্ণ করে ফেলছে ঠিক তেমনি স্থানীয় জৈব বৈচিত্রে বিরুপ প্রভাব ফেলছে। আবার একই ভাবে যে জমিতে হুলুদ (মশলা) চাষ হয়ে আসছিল বিগত বছরগুলোতে, স্থানীয় বাজারে এর তেমন কাটতি না থাকা এবং শহরাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহে সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগের অভাবে এর বিপনন ব্যহত হওয়ার কারণে এই ধরনের ঔষধি ফসলের চাষ না করে বাণিজ্যিকভাবে তামাকের চাষ করা হচ্ছে। এর সুদূর প্রসারী সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যুগ যুগ ধরে সে পরিবেশে ওষধি গাছগুলোতে যে ধরনের পোকামাকড়, কীট পতঙ্গ বাস করত, তাদের বিনাশ হয়ে পড়ছে অনিবার্য আর জৈব বৈচিত্রের ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে ঠিক এভাবেই। আবার যদি আমরা দেখি উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত রাস্তা নির্মাণের নামে অমিতব্যয়িভাবে বৃক্ষ নিধন এবং পাহাড় কাটার ফলে স্থানীয় পরিবেশে পড়ছে বিরুপ প্রতিক্রিয়া যদিও নির্মানাধিন রাস্তা যত না বেশি স্থানীয় অধিবাসীদের ভাগ্যান্নয়নের কাজে লাগছে তার চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে নিধনকৃত বৃক্ষ সরবরাহে। এছাড়া আদ্দিকালের পুরোনো জুম চাষ পদ্ধতির কারণে মওসুমগুলোতে পাহাড়ের গাছপালা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে চাষযোগ্য জমি তৈরির কারণেও জৈব বৈচিত্রে পরিবর্তন আসছে অতি দ্রুত। আমাদের প্রক্ষাপটে মাত্র একটি বিষয়কে সাময়িক ভাবে তুলে ধরা হলেও আরও অনেক খাতে আমাদের পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার পথে ক্রমশই এগিয়ে যাচেছ। এখনই যদি এর প্রতিকার করা সম্ভব না হয় তো আমাদের এই তিনটি পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী অধিবাসীরাও তাদের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলবে। এতে যেমন ক্ষুদ্র জাতিস্বত্তা গুলো হুমকির মুখে পড়বে তেমনি পার্বত্য অঞ্চলে সবেমাত্র গড়ে ওঠা পর্যটন সূচনাতেই মুখ থুবড়ে পড়তে পারে এবং আমরা হারিয়ে ফেলতে পারি আমাদের অনাবিল সৌন্দর্যের পার্বত্য ভূমি। ব্যপারটা অনুমেয় ঠিক এভাবে, যেভাবে কাটা হচ্ছে পাহাড়, যেভাবে উজাড় হচ্ছে বন, যেভাবে হারিয়ে যাচ্ছে জাতিস্বত্তা সেটা কি সেই ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠির প্রতি আমাদের অবিচার হবে না? আগত ভবিষৎ প্রজন্মের কাছে আমরা কি রেখে যেতে পারব একটি অনাবিক সুন্দর পরিবেশ? হোক না সেটা শুধুই এই তিনটি পার্বত্য অঞ্চলে তাতেই বা ক্ষতি কি। তথ্য সূত্র : http://www.fao.org/mnts/intl_mountain_day_en.asp Tourism and Biodiversity : Mapping tourism global footprint আরও তথ্য: http://www.kewkradong.com মন্তব্যগুলো (0)
![]() মন্তব্য লিখুন
|
||||
| সর্বশেষ আপডেট ( Tuesday, 29 May 2007 ) | ||||
| < পূর্বে |
|---|