| জাবিতে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র |
|
|
| লিখেছেন সীমান্ত দীপু | |
| Friday, 01 June 2007 | |
|
বাংলাদেশের যে ক'জন ওয়াইল্ড লাইফ বায়োলজিষ্ট দেশে বিদেশে সুপরিচিত এবং সুনামের সহিত কাজ করছেন তাদের মধ্যে প্রফেসর ড. মোঃ মোস্তফা ফিরোজ প্রধানতম। ১৯৯৯ সালে ক্যামব্রিজ থেকে পিএইচডি শেষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত করেন। এটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার। তার সহচরে থেকে ডব্লিউ আর সি ও তার কর্মজীবন নিয়ে লিখেছেন "সীমান্ত দীপু"। ![]() ডব্লিউ আর সি তে ভোঁদরের নয়নাভিরাম দৃশ্য
এই বিপুল পরিমাণ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব কিন্তু বিগত দু'দশক ধরে অপরিকল্পিতভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে নির্বিচারে বন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে। যার ফলে জীববৈচিত্র্য আজ মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন । বিশেষত উভচর, সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণী যাদের একসাথে আমরা বন্যপ্রাণী বলে থাকি তাদের অবস্থা সবচাইতে আশঙ্কাজন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ![]() ডব্লিউ আর সির উদ্বোধন করছেন জাবি'র ভিসি খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান ও প্রফেসর ড. মো: মোস্তফা ফিরোজ একেবারেই প্রকৃতির এ মানুষটি অনেক দেশের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে প্রতিষ্ঠf করলেন দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণীবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান হওয়ার পর এর কার্যক্রম আরো বৃদ্ধি পেতে থাকে। জা.বি ক্যাম্পাসকে জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ ক্যাম্পাস বলা হয়। এ ক্যাম্পসের ঠিক দক্ষিণ পাশে পাঁচ একর জমির উপর প্রফেসর ফিরোজের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বরাদ্দ দিয়েছেন। প্রাণীবিদ্যা বিভাগের বন্যপ্রাণী শাখার শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহনের মাধ্যমে ডব্লিউ আর সি একটি সফল প্রতিষ্ঠান । এটি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিভাগের শিক্ষক ড. মোঃ মফিজুল কবির, মিসেস সাজেদা বেগম ও এ.এইচ.এম আলী রেজা সার্বিক বিষয়ে সহযোগীতা করেছেন। বর্তমানে জনাব মোঃ আব্দুল আজিজ ও মোঃ কামরুল হাসান সার্বক্ষনিকভাবে এ প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। প্রফেসর ফিরোজের মতে ডব্লিউ আর সি'র প্রধান উদ্দেশ্য হল, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধরা পড়া প্রাণী, বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী এ সেন্টারে নিয়ে এসে তাদের সংরক্ষণ করা এবং প্রজনন ঘটিয়ে আবার সে পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া। এ ক্ষেত্রে ডব্লিউ আর সি আমাদের দেশে এমনকি দক্ষিণ এশিয়ারও একটি মডেল হিসেবে গন্য করা যায়। অধিকাংশ উদ্ভিদ ও প্রাণীর এটি একটি নিরাপদ স্থান। বর্তমানে ডব্লিউ আর সিকে জীববৈচিত্র্যের একটি সম্ভার বলা যায়। এখানে ১১ প্রজাতির উভচরের মধ্যে এক্সক্লুসিভ হল গ্রীনফ্রগ। বর্তমানে এখানে Ampbibian Poll নির্মাণ করে ব্যাঙ এর প্রজনন করা হচ্ছে। এখানে ১৯ প্রজাতির সরীসৃপের মধ্যে সোনাগুই সচরাচর চোখে পড়ে। বেশ কিছুদিন আগে এখানে ছাড়া হয়েছে দাড়াশ সাপ যা পরিবেশের জন্য খুবই উপকারী। এখানে ১৩১ প্রজাতির পাখির মধ্যে আটপৌড়ে দামা এ ক্যাম্পাস থেকে বাংলাদেশে প্রথম রেকর্ড করেন মনিরুল এইচ খাঁন। ডব্লিউ আর সিতে ১২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী পাওয়া যায়। এখানে ছাড়া হয়েছে দুর্লভ প্রজাতির ভোঁদর। যাদের নয়নাভিরাম চলাফেরা দেখার মত। এছাড়া খরগোশ ও শিয়ালেরও অভয়ারন্য বলা যায় এ ক্যাম্পাসকে।
![]() কচ্ছপের হ্যাচারিতে গবেষণারত ছাত্রছাত্রী প্রফেসর ফিরোজ ও তার সহকর্মীদের এ প্রচেষ্টা দেশের পরিবেশ সংরক্ষণে একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। এরকম সংগঠনের সংখ্যা আমাদের দেশে এমনকি সারা বিশ্বে বহুগুনে বৃদ্ধি করা একান্ত আবশ্যক। তাতে প্রাণীবৈচিত্র্যের বিপুল সম্ভারটা একদিকে যেমন রক্ষা পাবে, অন্যদিকে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীদের একটি নতুন সেতুবন্ধন গড়ে তোলা সম্ভব। নিচে ড. ফিরোজের সাথে একটি সাক্ষাৎকার দেয়া হল। সী. দীপুঃ ডব্লিউ আর সি কবে এবং কেন প্রতিষ্ঠিত করলেন ? মন্তব্যগুলো (5)
![]() লিখেছেন nehal, August 06, 2007
valo lagesa ai sundor uddag nauar jonno.thanks sir
লিখেছেন nehal, August 06, 2007
uddagta khub valo lagasa amar kase.thanks sir
লিখেছেন এনায়েত, June 27, 2007
জনাব সোহাগ ভূঁইয়া,
সাইট ভিজিট করা এবং আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনার ভাবনা সত্যিই হলেই খুশি হতাম। কিন্তু স্প্যামারদের কাছে সাইটের জনপ্রিয়তা বোধহয় কোন বিষয়না। এর আগে পোস্ট মডারেট করতাম, কোন সিকিউরিটি ইমেজ ছিলনা। আপনি হয়ত বিশ্বাসই করবেননা কত স্প্যাম মুছতে হত প্রতিদিন। মডারেট করতে করতে অনেক সময় নষ্ট হয়। সেই সময় আমি খবর সংগ্রহ আর অনুবাদ করার কাজে ব্যয় করতে পারছি। লিখেছেন সোহাগ ভূইঁয়া, June 12, 2007
চমৎকার।
লেখাটি ভালো হয়েছে, সেই সাথে ভালো লেগেছে এই ওয়েবসাইটের উদ্যেগ। তবে সিকিউরিটি ইমেজটি উঠিয়ে দিলেই বোধহয় ভালো হয়। এই মূহুর্তে আপনার সাইটে স্প্যামিং শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু সাধারন পাঠকের জন্য ওটা বিরক্তিকর। মন্তব্য লিখুন
|
|
| সর্বশেষ আপডেট ( Tuesday, 05 June 2007 ) |
| < পূর্বে | পরে > |
|---|