| ২০৫০ সাল: উষ্ণতা বাড়বে, ফসল উৎপাদন কমবে ৩০ শতাংশ |
|
|
| লিখেছেন আশরাফ আলী | |
| Friday, 01 June 2007 | |
|
তাপমাত্রা বেড়ে উত্তপ্ত হচ্ছে পৃথিবী, গলছে বরফ। ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই উর্ধ্বগতি রোধ করা না গেলে ২০৫০ সালের মধ্যে তা মানুষের সহ্যের বাইরে চলে যেতে পারে। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার শস্যের উৎপাদনও ৩০ শতাংশ কমে যাবে। এ শতাব্দীর মধ্যেই পশ্চিম এশিয়াতে দেখা দেবে ব্যাপক পানিস্বল্পতা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যে হিমালয়ের জমাটবাঁধা সব বরফ গলে শেষ হয়ে যেতে পারে। দেখা দেবে অতিমাত্রায় খরা । শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোতে পানি প্রবাহ থাকবে না। প্রকৃতিতে বড় ধরনের এই পরিবর্তনের ফলে জীববৈচিত্র্য, পানি ও খাদ্য সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ব্যাপকহারে প্রবাল প্রাচীর নষ্ট হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে ভূপৃষ্ঠে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ধানে চিটা হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা ও বন্যার প্রকোপ বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য ২০১৫ সালের মধ্যেই যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলেও বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক ও সিডিএমপি’র জলবায়ু পরিবর্তন সেলের ম্যানেজার মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়ন সম্পর্কিত এক গবেষণায় এসব আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন। উত্তপ্ত হচ্ছে পৃথিবী, গলছে বরফ এ অবস্থায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন তার গবেষণায়। গবেষণায় বলা হয়েছে, হিমালয়ের বরফ গলার কারণে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পরিমাণ বাড়ছে। যেসব এলাকায় আগে কখনো বন্যা হয়নি, সেসব স্থানেও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে হিমালয়ের জমাটবাঁধা প্রায় সব বরফ গলে শেষ হয়ে যাবে। আর এই বরফ গলা শেষ হয়ে গেলে ব্যাপক মাত্রায় খরা দেখা দেবে। নদ-নদীগুলোতে কোনো পানি প্রবাহ থাকবে না। শুধু বৃষ্টিপাতই হবে পানির একমাত্র উৎস। তা ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীর প্রধান তিনটি ‘ব’ দ্বীপের প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে ব্যাপকভাবে। ইতোমধ্যে আবহাওয়াজনিত বিভিন্ন দুর্যোগ ব্যাপকহারে বেড়ে গেছে। বৃষ্টিপাতের সময়ের ব্যাপ্তি ষাটের দশকের চেয়ে বেড়েছে অনেক গুণ । বেড়েছে বন্যা ও খরাও। বন্যার স্থায়িত্বও ক্রমশ দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে। গ্রীষ্মকালে সমুদ্রের লবণ পানি দেশের অভ্যন্তরে প্রায় ১০০ কিমি পর্যন্ত নদীতে প্রবেশ করছে। ডায়রিয়া ও পুষ্টিহীনতার মতো স্বাস্থ্য সমস্যাও ব্যাপকভাবে বাড়ছে। গবেষণায় বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গ্রিন হাউস গ্যাসের আধিক্য ইতোমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তন করতে শুরু করেছে। পৃথিবীতে যে পরিমাণ পানি আছে, তার দু ভাগই আছে বরফ হিসেবে। তাপমাত্রা বাড়ার ফলে বরফ গলে যাচ্ছে এবং বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে উপকূল, নিচু দ্বীপসহ নিচু এলাকা ডুবে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও বেড়ে গেছে। ঝড়, সাইক্লোন, খরা ইত্যাদির মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। প্রচুর সম্পদ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের প্রান্তিক মানুষ। এটা অব্যাহত থাকলে এ ক্ষতির মাত্রা আরো বাড়বে। ১২ হাজার বছরেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। ১৮০০ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড, যার প্রভাব পড়েছে সমগ্র পৃথিবীতে। বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৪ থেকে ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দাবদাহ, ঝড়, হারিকেনের মতো চরম আবহাওয়ার বিপর্যয় বারবার ঘটবে। কিছু বিপজ্জনক বাহকবাহিত ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেবে। জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে বাংলাদেশে ইউএনডিপি’র ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ল্যারি ম্যারিমিস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশে দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে মিডিয়ার ভূমিকার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি দূরের কোনো বিষয় নয়, ২০১৫ সালের মধ্যেই যেকোনো ধরনের ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তন রাজনীতির শিকার হচ্ছে। আর এ জন্য উন্নত বিশ্বই অনেকটা দায়ী বলে তিনি মনে করেন। কারণ উন্নত বিশ্ব তাদের দেশের মানুষকে সচেতন করতে মিডিয়ায় এ বিষয়টি ফলাও করে প্রচার করলেও বাংলাদেশকে তথ্য সরবরাহে সহযোগিতা করছে না। তা ছাড়া বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাও মিডিয়ার জন্য উন্মুক্ত নয়। ফলে অবাধ তথ্যপ্রবাহ না থাকায় গণমাধ্যম তার ভূমিকা পালন করতে পারছে না। তিনি মনে করেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মন্তব্যগুলো (3)
![]() লিখেছেন Nature, June 04, 2007
You guys are absolutely right. The G8 Summit on Global warming has just finished. We hope something better will be chalked out from now on.
লিখেছেন md. faizur rahman khan, June 03, 2007
Now it is the time to give a speacial attention on it.because the effect of global warming (which is also known as a green house effect)has already started and people are suffering for it. If we have a look on the cause of it we will found that the rich country who are showing their so called awareness, are leading position of this matter.their playing the major role to this green house effect. i personally believe and hope that before make aware others they should take proper step for it.
লিখেছেন Md.Saiful amin, June 03, 2007
Global warming is no longer an emotional issue until few years before people were not aware of it.
মন্তব্য লিখুন
|
|
| সর্বশেষ আপডেট ( Friday, 01 June 2007 ) |
| < পূর্বে | পরে > |
|---|