• Narrow screen resolution
  • Wide screen resolution
  • Auto width resolution
  • Increase font size
  • Decrease font size
  • Default font size
Member Area

নিসর্গ : বাংলার প্রকৃতি | Nishorga : Bangladesh Nature & Environment

Monday
Oct 06th
হোম arrow প্রবন্ধ arrow কমোডো ড্রাগনের দেশে
কমোডো ড্রাগনের দেশে প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন Shekhar Roy   
Saturday, 03 February 2007

নয়া দিগন্ত, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০০৭: কমোডো ড্রাগন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সরীসৃপ। পূর্ণাঙ্গ একটি কমোডো ড্রাগন আকারে একজন মানুষের দ্বিগুণ। আমরা অনেকেই রূপকথায় পড়েছি ড্রাগন মুখ দিয়ে আগুনের পিণ্ড ছুড়ে মারে। বাস্তবের কমোডো ড্রাগনও কম ভয়ঙ্কর নয়। ছবিতে যে কমোডো ড্রাগন দেখা যাচ্ছে, মনে হচ্ছে কোনো কিছুর দিকে সে রাগী চোখে তাকিয়ে আছে। আসলে সে জিভ বের করে চার পাশের ঘ্রাণ শুঁকছে। তবে মনে হচ্ছে ওটা জিভ নয়, একটা আগুনের শিখা মুখ থেকে একটু পরপরই বেরিয়ে আসছে। সম্ভবত এ জন্যই প্রাণীটির নাম কমোডো ড্রাগন। সবচেয়ে বড় এ সরীসৃপ জিভের সাহায্যে বাতাস থেকে ঘ্রাণ নেয়। অবাক ব্যাপার হলো, কমোডো ড্রাগন জিভের সাহায্যে ৬ মাইল (১০ কিলোমিটার) দূর থেকেও পচা মাংসের গন্ধ পায়!

Image
Komodo Dragon- dailyNayadiganta.com
কমোডোদের জীবনযাত্রা

কমোডো ড্রাগন বাচ্চা জন্ম দেয়ার সময় ছাড়া অন্য সময় সাধারণত একাই চলাফেরা করে। চলাফেরা করার সময় মোটামুটি নিঃশব্দেই চলে ওরা। যেসব দ্বীপে ওরা থাকে, সেগুলো শুকনো আর প্রচণ্ড গরম। দ্বীপের শুকনো মাটিতে শুয়ে শুয়েই সময় কাটায় ওরা। তবে সূর্যের তীব্র আলো যখন ওদের কাছে অসহ্য বলে মনে হয়, তখন বিশ্রামের জন্য ছায়াময় কোনো জায়গার খোঁজ করে। সারা দিন রোদে কাটানোর পর ওরা যার যার গর্তে আরাম করে ঘুমাতে যায়।

কমোডো ড্রাগন বেশি শক্তি খরচ করে না বলে খুব বেশি শক্তির দরকারও হয় না। এর মানে হলো ওরা বেশ কিছু দিন কিংবা সপ্তাহ যাবত কোনো কিছু না খেয়েই দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে। এ জন্য অনেকেই ওদের খুব অলস ভাবতে পারে । আসলে ওরা মোটেও অলস নয়। আসল ব্যাপার হলো ক্ষুধা না পেলে ওরা শিকার ধরে না।

কী খায় কমোডো ড্রাগন

কমোডো ড্রাগন মাংসাশী প্রাণী। সুযোগ পেলেই ওরা নিজের দলের দুর্বল কোনো সদস্যকে খেয়ে ফেলে। কমোডো ড্রাগনের এ স্বভাব সদ্যোজাত শিশু ড্রাগনদেরও অজানা নয়। তাই তো ডিম থেকে বেরিয়েই শিশু ড্রাগন দৌড়ে এক লাফে গাছের ডালে চড়ে বসে, যাতে বড়রা তাদের ধরতে না পারে। বড়দের আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য জীবনের প্রথম কয়েকটি বছর তারা গাছের ডালেই কাটিয়ে দেয়।
শিকার ধরার অস্ত্র

কমোডো ড্রাগনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো ক্ষুরের মতো ধারালো দাঁত আর পায়ের তীক্ষ্ন নখ। একটা হরিণ হয়তো পথ হারিয়ে হঠাত করেই একটা কমোডো ড্রাগনের সামনে পড়ে গেছে। আর যায় কোথায়? কমোডো ড্রাগন দ্রুত হরিণটার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আর ধারালো দাঁত দিয়ে নিমিষেই ওটাকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। আহত শিকারটা মাঝে মধ্যে হয়তো কমোডো ড্রাগনের আক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য আহত অবস্থাতেই ছুটে পালাতে চেষ্টা করে। কিন্তু তাতেও আসলে কোনো লাভ নেই। পালিয়ে যাওয়া শিকারের পেছনে কমোডোরা মোটেও তাড়া করে ছুটে যায় না। কারণ ওরা ভালো করেই জানে যে আহত প্রাণীটা শিগগিরই মারা যাবে। তখন মৃত প্রাণীর গন্ধ শুঁকে খুঁজে বের করা মোটেও কষ্টকর কোনো কাজ নয় ওদের জন্য। অন্যান্য কমোডোর কেউ হয়তো গন্ধ শুঁকে প্রাণীটির মৃতদেহ আবিষ্কার করবে। তারপর সবাই মিলে একসঙ্গে মহা উতসাহে ভোজ সারবে।

কমোডো ড্রাগনের রহস্য

কমোডো ড্রাগন বিশ্বের ভয়ঙ্করতম সরীসৃপ। কিন্তু এর পেছনে কোনো রহস্য আছে কি? নিশ্চয়ই আছে। আসলে এক একটি কমোডো ড্রাগনের গোটা দেহ হচ্ছে অসংখ্য সংক্রামক জীবাণুর ডিপো। শিকারকে যখন ওরা ধারালো দাঁত আর নখের আঘাতে মারাত্মকভাবে আঘাত করে, তখনই জীবাণুগুলো শিকারের দেহে ঢুকে যায়। কাজেই শিকারটি আহত হয়ে মারা না গেলেও জীবাণুর আক্রমণে নির্ঘাত মারা যায়। মৃত শিকারটি খাওয়ার সময় কমোডো ড্রাগন চোয়াল প্রশস্ত করে বিরাট হাঁ করে। ওদের মুখের ভেতরে থাকা পিচ্ছিল লালা শিকারের পায়ের ক্ষুর, শিং এমনকি গোটা শিকারটিই গিলে ফেলতে সাহায্য করে।

ড্রাগন শিকারি

লাখ লাখ বছর ধরে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন দ্বীপে কমোডো ড্রাগন বাস করে আসছে। এ দ্বীপগুলোর বাইরের কেউ ১০০ বছর আগেও এদের সম্পর্কে কিছু জানত না। এখন কেবল কয়েকটি দ্বীপে ওদের দেখা পাওয়া যায়। এ দ্বীপগুলো কমোডো ন্যাশনাল পার্কের অন্তর্ভুক্ত। এখানেই ওদের সংরক্ষণ করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়­ এমন ভয়ঙ্কর সরীসৃপদের সংরক্ষণ করা দরকার কেন? কারণ বর্তমানে মানুষের বসতির জন্য কমোডো ড্রাগনের বিচরণ ক্ষেত্র কমে এসেছে। তা ছাড়া যেসব প্রাণী কমোডো ড্রাগন শিকার করত, মানুষ সেগুলো শিকার করে ওদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে ফেলেছে। কমোডো ন্যাশনাল পার্কে ওরা যথেষ্ট শিকার পায়। তাই ওদের খাবারের কোনো অভাব হয় না।

বিজ্ঞানী টিম জোসেফ কমোডো ড্রাগনের ওপর গবেষণা করতে প্রায়ই ইন্দোনেশিয়ায় যান। প্রথমে তার দলের সদস্যরা কমোডো ড্রাগন ধরার জন্য ফাঁদ নিয়ে ওদের আবাসস্থলের কাছে চলে যায়। যেসব কমোডো আকারে বেশ বড়, সেগুলোকে ফাঁদের পরিবর্তে ল্যাসো দিয়ে ধরা হয়। কমোডো ড্রাগন ধরার পর ওদের ওজন করা হয়। তবে তার আগে নিরাপত্তার স্বার্থে অবশ্যই ওদের মুখ শক্ত করে টেপ দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। ওদের নখঅলা পা আর শক্তিশালী লেজও দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। মাপজোকের সুবিধার জন্য টিম প্রত্যেকটি কমোডোর পেছনের পায়ের চামড়ার নিচে একটি করে ট্যাগ বেঁধে দেয়। এ ট্যাগগুলো ওদের কোনো ক্ষতি করে না বরং গবেষণার কাজে একটি ড্রাগন থেকে অন্যটিকে আলাদা করে শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

পরবর্তীকালে কখনো আগে ধরা কোনো কমোডো ড্রাগন ধরা পড়লেই টিম এটাকে সহজেই শনাক্ত করতে পারে। ওটার পেছনের পায়ে একটি স্ক্যানার ঝুলিয়ে দেন মি জোসেফ। স্ক্যানারের সাহায্যে সহজেই কমোডো ড্রাগনটির শনাক্তকরণ নম্বর পড়ে ফেলা যায়। আর ওটার যাবতীয় তথ্যও জেনে নেয়া যায় সহজেই ।

বিজ্ঞানী টিম জোসেফ কমোডো ড্রাগনের জীবনচক্র সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা করেন। কোনো কোনো বিজ্ঞানী কিন্তু কমোডোর জীবনযাত্রা নয়, বরং ওদের মুখের লালার ব্যাপারেই বেশি উতসাহী। কারণ ওদের মুখের লালার বিষক্রিয়া কেবল কমোডোদের শিকারের ওপরই কাজ করে কিন্তু নিজেদের মধ্যে এটা মোটেও ক্ষতিকর নয়। বিজ্ঞানীদের মতে, ওদের রক্তই নিজেদের দেহের মধ্যে থাকা ভয়ঙ্কর জীবাণুগুলো মেরে ফেলে। মানুষের দেহের জীবাণু ধ্বংসের ক্ষেত্রে এগুলো কি কোনো ভূমিকা রাখতে পারে? হয়তো পারে। এ প্রশ্নের উত্তর জানতেও বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে গবেষণা করে চলেছেন কমোডো ড্রাগন নিয়ে। সূত্রঃ রেনজার রিক

মন্তব্যগুলো (0)Add Comment

মন্তব্য লিখুন

security code
Write the displayed characters


busy
সর্বশেষ আপডেট ( Sunday, 25 February 2007 )
 
< পূর্বে   পরে >

এ ধরনের লেখা