| বিশ্ব তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রসঙ্গ |
|
|
| লিখেছেন Ittefaq Editorial | |
| Tuesday, 06 February 2007 | |
|
জাতিসংঘ হইতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, মূলতঃ মানুষের কর্মকাণ্ডই বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী। প্রতিবেদনে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করিয়া বলা হয়, এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ বিশ্বের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যনত্দ বৃদ্ধি পাইতে পারে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলাফল অবশ্য মানুষকে বহন করিতে হইবে কয়েক শতাব্দী যাবত। ইহার ফলে ভারত ও বাংলাদেশের নদীর পানি হ্রাস পাইবে এবং সমুদ্রের পানি বৃদ্ধির পরিণতিতে কিছু উপকূলীয় অঞ্চল পানির নীচে তলাইয়া যাইবে। বিজ্ঞানীরা অবশ্য এবারে খুব স্পষ্ট ভাষায় বিশ্বের এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য মানব সৃষ্ট দুষণকে দায়ী করিয়াছেন। বলিয়াছেন, মানুষ যে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করিতেছে, ইহাই বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ৰেত্রে অধিক ভূমিকা রাখিতেছে। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচীর প্রধান আন্টিম স্টাইজার বলিয়াছেন, এবারের এই রিপোর্ট পরিষ্কার এবং স্পষ্ট। রিপোর্টে সন্দেহাতীতভাবেই প্রমাণপঞ্জী তুলিয়া ধরিয়া বলা হইয়াছে যে, গত ৫০ বৎসরে বিশ্বের তাপমাত্রার এই গড়হার বৃদ্ধির জন্য মানব জাতির ব্যর্থতাই দায়ী। এদিকে বিশ্বের এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাই শুধু বৃদ্ধি পাইতেছে না, ঝড় ও হ্যারিকেনের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনাও বৃদ্ধি পাইতেছে। জাতিসংঘের এই রিপোর্টের অন্যতম প্রণেতা সেলিম-উল-হক বলিয়াছেন, বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পরিবেশের ৰতি এখন যে রকম স্পষ্ট অতীতে উহা কখনও তেমন দেখা যায় নাই। হিমালয়ের বহু হিমবাহ গলিয়া গিয়াছে এবং সুন্দরবন এলাকার কয়েকটি দ্বীপ ডুবিয়া গিয়াছে। পরিবেশ দূষণের ফলে গেস্নাবাল ওয়ার্মিং তথা বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টা লইয়া ১৯৯২ সাল হইতেও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা সোচ্চার। ঐ সালে বিশ্বের ১৬০টি দেশের বিজ্ঞানীরা গ্রীন হাউজ গ্যাস হ্রাসের উপায় নিরূপণের জন্য বৈঠক করেন। ১৯৯৭ সালে জাপানের কিয়োটোতে জাতিসংঘ ক্লাইমেট রেঞ্জ কনভেনশনের উদ্যোগে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাৰরিত হয়। এই চুক্তিতে মানুষের দ্বারা ব্যবহৃত ছয়টি গ্যাস নির্গমন ও নিঃসরণ হ্রাসের কথা গুরম্নত্বের সহিত উলেস্নখিত হয়। যথাঃ কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, হাইড্রোফ্লুরো কার্বন, পার ফ্লুরো কার্বন এবং সালফার হেকসাফ্লেুরাইড। গত বৎসরের শেষ দিকে বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ স্যার নিকোলাস স্টার্ন বৃটিশ সরকারের সহায়তায় ও উদ্যোগে আনত্দর্জাতিক আবহাওয়া পরিবর্তনের উপরে ৭০০ পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন। ওই রিপোর্টে স্যার নিকোলাস স্টার্ন বলিয়াছেন, বিশ্বের উষ্ণতা যদি রোধ করা না যায়, তাহা হইলে ইহা যে বিপর্যয় ডাকিয়া আনিবে, ওই বিপর্যয় হইবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কিংবা ত্রিশ দশকের গ্রেট ডিপ্রেশন বা মহামন্দার সমতুল্য। অর্থনীতিবিদ হিসাবে স্যার নিকোলাস স্টার্ন ওই প্রথমবারের মত আবহাওয়াগত ওই বিপর্যয়ে আনত্দর্জাতিক অর্থনীতিতে যে বিপর্যয় দেখা দিবে, উহার বিশদ বিবরণ তুলিয়া ধরিয়া রিপোর্টে স্পষ্ট ভাষায় বলিয়া দিয়াছিলেন যে, আবহাওয়ার অব্যাহত পরিবর্তনে বিশ্বের মোট আভ্যনত্দরীণ উৎপাদন বার্ষিক ৫ হইতে ২০ শতাংশ হারে হ্রাস পাইবে কিংবা ৰতিগ্রসত্দ হইবে। ইহা এখন স্পষ্ট যে, ওজন সত্দর নামক পৃথিবীর উপরিভাগে এমন এক বায়বীয় বেষ্টনী রহিয়াছে, যে বেষ্টনীর মাধ্যমে সূর্যরশ্মি পরিশোধিত হইয়া পৃথিবীতে আসে। উপরে উলিস্নখিত ছয় বা ততোধিক ৰতিকর গ্যাস নির্গমন ও নিঃসরণ উপরোক্ত বায়বীয় সত্দরকে বিনষ্ট করে। ফলে উপরোক্ত সত্দরে সৃষ্টি হয় ৰত-ছিদ্র। ইহাকেই বলা হয় গ্রীন হাউজ এফেক্ট। আর সেই ছিদ্রপথে সূর্য রশ্মি সরাসরি পৃথিবীর বুকে প্রবেশ করিয়া থাকে। পরিণতিতে হিমবাহ ও হিমালয়সহ বিভিন্ন পর্বতের উপরিভাগে জমাটবাঁধা বরফ গলিয়া যায়। সমুদ্রে পানির সত্দরের বৃদ্ধি ঘটে। এবং আবহাওয়াগত পরিবর্তনের দরম্নন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ঝড় ঝঞ্ঝা, সুনামি ধরনের সামুদ্রিক পস্নাবন ও গোরকী ধরনের জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা ও সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। উলেস্নখ্য যে, আধুনিক সভ্যতা মূলতঃ যন্ত্রচালিত। আর এই যন্ত্র পরিচালনার জন্যই মানুষকে এখন নানান ধরনের শক্তি বিশেষতঃ তৈল-পেট্রোল ও গ্যাস ব্যবহার করিতে হয়। ওই সব জ্বালানিই নিঃসরণ ও নির্গমন করিয়া থাকে উপরোক্ত ছয় ধরনের ৰতিকর গ্যাস। এই কারণেই স্টার্ন রিপোর্টে ও কিয়োটো প্রটোকলে জরম্নরী ভিত্তিতে মানবজাতিকে বিশেষতঃ শিল্পসমৃদ্ধ দেশগুলিকে এনার্জি বা শক্তি ব্যবহারে সংযত হইবার আহবান জানান হয়। চৌদ্দশত বৎসর পূর্বে অবতীর্ণ আসমানী গ্রন্থ আল কোরআনেও বলা হইয়াছিল, বিপর্যয় ছড়াইয়া পড়ে জলভাগে ও স্থলভাগে মানুষের কৃতকর্মের দরম্নন। ফলতঃ আলস্নাহ মানুষকে তাহাদের কৃতকর্মের (দরম্নন) শাসত্দি আস্বাদন করাইতে চাহেন যাহাতে তাহারা (সঠিক পথে) ফিরিয়া আসে (সুরা রূম)। আমরা আশা করিব, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির এই রিপোর্ট, কিয়োটো প্রটোকলে স্বাৰরদানকারী এবং স্বাৰর প্রদানে অস্বীকারকারী দেশসমূহের নেতৃবর্গের সম্বিত ফিরাইতে সহায়তা করিবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের মত সম্ভাব্য ৰতিগ্রসত্দ দেশগুলিকে আনত্দর্জাতিক ফোরামে এখন হইতেই সক্রিয় ও সোচ্চার হইতে হইবে। মনে রাখিতে হইবে, গোটা বিশ্ব এখন এক গেস্নাবাল ইউনিটে পরিণত হইয়াছে। সুতরাং একের ৰতিগ্রসত্দতা শুধু তাহার নয়, গোটা বিশ্বের সবদেশের সকলেরই ৰতির কারণ হইয়া দেখা দিবে। সুতরাং হুঁশিয়ার হইবার সময় এখনই। মন্তব্যগুলো (1)
![]() মন্তব্য লিখুন
|
|
| সর্বশেষ আপডেট ( Sunday, 25 February 2007 ) |
| < পূর্বে | পরে > |
|---|
এত বেশি পরিমাণ পরিবেশ দূষণের জন্য মানুষ দায়ী কিনা সে প্রশ্ন উঠেছে দায়ী যে মানুষই সে ব্যাপারে কোনও প্রশ্ন নেই শিল্প উৎপাদন কার জন্য, কীসের জন্য? আজ পৃথিবীর জনসংখ্যা যদি মাত্র এক কোটি হয়ে যায় তবে এসব শিল্প উৎপাদন কি হতে পারে? কার জন্য কে উৎপাদন করবে, আর কেইবা কিনবে? একটা টিভি কিংবা একটা কম্পিউটার কি এক জনের জন্য উৎপাদন করা সম্ভব? জনসংখ্যার প্রকৃত এবং সুসম ভারসাম্য না আনলে পরিবেশ দূষণ এবং বিশ্ব-উষ্ণায়ন কমা সম্ভব নয়, বিজ্ঞানীরা অনেকে সেটা স্বীকার না করলেও ঘটনা অসত্য হয়ে যায় না
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং শিল্প উৎপাদন সরাসরি সম্পর্কিত, তবে জনবৃদ্ধি মানে গিজগিজে অবস্থা নয়! থাকার জায়গা নেই, খাবার নেই, পরিধেয় নেই, শিক্ষা নেই, চিকিৎসা নেই-- বেঁচে থাকাই যেখানে সংকট, সেরকম অবস্থা হলে, মানুষ না চাইলেও প্রকৃতি নিজের হাতেই সমস্যার সমাধান করে দেবে, ধরণী তার নিজের ভার কমিয়ে ফেলবে নিজের হাতে সুনামি, কাটরিনা, এল নিনো, ভূমিকম্প, ভয়াবহ বন্যা, জলোচ্ছ্বাস কিংবা মহামারী এসব কি মানুষ শেষ অবধি ঠেকাতে পারবে? মানুষ যদি তার নিজের হাতে তৈরি পরমাণু বোমায় নিজেকে ধ্বংস নাও করে, প্রকৃতিই সেটা করবে প্রকৃতির পক্ষে পরিবেশ অ-সহনীয় হলে 'লোড শেডিং'-এর মতো প্রকৃতির নিয়মেই জন-শেডিং হবে, আর সেটা ধনী দেশ বা গরিব দেশ দেখে নয়, (হাতে পরমাণু নিয়ে, থাকো যতই এগিয়ে!) সামনে যা পাবে, সপাটে সেটাই যাবে!