• Narrow screen resolution
  • Wide screen resolution
  • Auto width resolution
  • Increase font size
  • Decrease font size
  • Default font size
Member Area

নিসর্গ : বাংলার প্রকৃতি | Nishorga : Bangladesh Nature & Environment

Monday
Oct 06th
হোম arrow প্রবন্ধ arrow ইকোট্যুরিজম: পরিবেশ সংরক্ষণের হাতিয়ার
ইকোট্যুরিজম: পরিবেশ সংরক্ষণের হাতিয়ার প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন (অনুবাদ) এনায়েতুর রহীম   
Monday, 19 February 2007
আর্টিকেল সূচি
ইকোট্যুরিজম: পরিবেশ সংরক্ষণের হাতিয়ার
ইকোট্যুরিজম কেন সংরক্ষণের হাতিয়ার
ইকোট্যুরিজম কিভাবে সংরক্ষণের হাতিয়ার
প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

ইকোট্যুরিজম শব্দের উৎপত্তি ১৯৮৭ সালে। সে অব্দি একে নানা ভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ১৯৯১ সালে ইকোট্যুরিজম সৌসাইটি (ETS) এর নতুন সংজ্ঞা প্রদান করে। তাদের মতে, 'ইকোট্যুরিজম হচ্ছে প্রকৃতির মাঝে একপ্রকার দায়িত্বশীল ভ্রমণ যা স্থানীয় অধিবাসীদের ভাল-মন্দ বজায় রাখে।" (Epler Wood, 1996.) এখানে প্রকৃতি বলতে সমগ্র পরিবেশকেই বোঝানো হয়েছে। সাধারণ অর্থে ইকোট্যুরিজম হল কোন এলাকার প্রাকৃতিক এবং অধিবাসীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ ব্যাহত না করে এক প্রকার দায়িত্বশীল পর্যটন। ব্যাপক অর্থে ETS এর মতে ইকোট্যুরিজম-এর কয়েকটি মূলনীতি রয়েছে। পর্যটন -

১. যেকোন ধরনের খারাপ প্রভাব যা সেই এলাকার প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের বৈশিষ্ট নষ্ট করে তা থেকে বিরত রাখে,
২. ভ্রমণকারিদের প্রকৃতি সংক্ষণের বিষয়ে শিক্ষিত করে,
৩. প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য অর্থ প্রবাহ (flow of revenue)বৃদ্ধি করে,
৪. স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং আশেপাশে বসবাসকারি মানুষের অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়,
৫. এ শিল্পের বিকাশে সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব আরোপ করে। সাথে সাথে এটাও নিশ্চত করে যে পর্যটনের ফলে উন্নয়ন যেন সামাজিক ও পরিবেশগত সামর্থ (capacity) ছাড়িয়ে না যায়, এবং
৬. স্থানীয় সম্পদের ব্যবহারের ফলে অর্জিত রাজস্বের একটা বড় অংশ ঐ স্থানের মানুষের কাছেই থাকা নিশ্চিত করে।

পাহাড়ী নিসর্গ- মুনতাসির মামুন ইমরান
পাহাড়ী নিসর্গ- মুনতাসির মামুন ইমরান
ইকোট্যুরিজম শব্দটি এসেছে ‘ইকলজি’ এবং ‘ট্যুরিজম’ এই দুটি শব্দ থেকে। সাধারণ অর্থে ইকোট্যুরিজম বলতে প্রকৃতির স্বাদ আস্বাদনের উদ্দ্যেশে পরিচালিত যেকোন ধরনের ভ্রমণকেই বুঝায়। কিন্তু ইকোট্যুরিজম সোসাইটি এর সাথে যোগ করেছে মানুষের ‘সামাজিক দায়িত্ববোধ’; ফলে ইকোট্যুরিজম  হল সেই পর্যটন যার মাধ্যেমে কোন এলাকার প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ এবং এর ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং তা সংরক্ষণের প্রচেষ্টার মাধ্যমে মানুষের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি যা স্থানীয় জনগনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহায়ক হয়।

প্রায়ই ইকোট্যুরিজমের সাথে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান বা গবেষণা, শিক্ষা, বিনোদন এবং ‘অভিযান’ একাকার হয়ে পড়ে। আর তাই ইকোট্যুরিজম এর উদ্দ্যেশ্য ও লক্ষ্য বিবেচনায় একে সংজ্ঞায়িত করা আরো কঠিন হয়ে পড়ে। লারম্যান (১৯৮৭) ও ডার্স্ট (১৯৯৪) এর মতে ইকোট্যুরিজম এর রয়েছে দুটি মাত্রা-- কঠিন ও কোমল(hard & soft). কোন পর্যটন কেবল ভ্রমণের জন্যই ভ্রমণ না-কি একনিষ্ঠ কোন লক্ষ্যে পরিচালিত তা-ই এই দুই মাত্রার মধ্যে মূল পার্থক্য। পাখিবিধ, উদ্ভিদতত্তবিধ এবং এজাতীয় কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির পর্যটন "একনিষ্ঠ" (hardcore) অর্থে বিবেচনা করা যায়। আবার কেবল আনন্দবিলাস বা নিছক ভ্রমণের জন্য সাগর তীরে আসা, সমুদ্রে মাছ ধরা, নতুন যায়গায় গিয়ে কেনাকাটা ইত্যাদি "কোমল" পর্যটনের মধ্যে পড়ে। এধরনের পর্যটন একসাথে একাধিক উদ্দ্যেশ্যে পরিচালিত হতে পারে, যেমন- নাতিশীতোষ্ণ বনাঞ্চল দেখা, পাখি ও বন্যপ্রাণি পর্যবেক্ষণ, প্রত্নতাত্বিক স্থান দর্শন ইত্যাদি। "কঠিন-কোমল" পর্যটনের অন্য ব্যাখ্যা হতে পারে এমন যে পর্যটককে কতটা শারিরীক শ্রম দিতে হবে এই ভ্রমণে, তাকে দুর্গম বনবনানীর মাঝে দীর্ঘ পথ হেঁটে চলতে হবে কি না, স্লীপিং ব্যাগে ঘুমাতে হবে কি না, অথবা প্রাকৃতিক কাজ করার জন্য অতিসাধারণ ব্যাবস্থা দিয়েই চালিয়ে নিতে হবে কি না, নাকি শুশোভিত থাকার ব্যাবস্থা থাকবে, ভাল রেস্তোরাঁয় খাবার খাবে, চলাচলের সুব্যাবস্থা থাকবে ইত্যাদি। "কঠিন" মাত্রার পর্যটনের কিছু অংশ আবার "কোমল" পর্যটনের মধ্যেও পড়ে। তাই লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ধরনে ও মাত্রায় এই দুই ধরনের পর্যটনের মধ্যে কমবেশী ওভারল্যাপ রয়েছে। তবে সমসাময়িক কালে ইকলজির প্রতি আকর্ষণ এবং এ ধরনের পর্যটন দিনে দিনে বাড়ছে।



সর্বশেষ আপডেট ( Sunday, 25 February 2007 )
 
< পূর্বে   পরে >

এ ধরনের লেখা