হাকালুকি হাওরের নাগোয়া-ধলিয়া বিলে সম্প্রতি এক জোড়া কালাগলা মানিকজোড় বা ব্ল্যাক-নেক্ড স্টর্ক দেখা গেছে। গত ৬২ বছরে বাংলাদেশের কোথাও এ পাখির দেখা মেলেনি। প্রাণিবিজ্ঞানী সিমসন ১৩০ বছর আগে ঢাকা নগরে এ পাখি দেখেছিলেন এবং ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে পাখিটির অস্তিত্ব ছিল। এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ গ্রন্থে কালাগলা মানিকজোড়কে এ দেশের ‘প্রাক্তন পরিযায়ী পাখি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বৈশ্বিক প্রায়-বিপন্ন এ পাখিকে ‘অপ্রতুল তথ্য’ শ্রেণীভুক্ত করেছে আইইউসিএন প্রণীত বাংলাদেশের বিপন্ন বন্য প্রাণী বইটি।
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া শহরসংলগ্ন নাগোয়া-ধলিয়া বিলে একদল পাখিপ্রেমী সম্প্রতি অতি-বিরল এ পাখির বিচরণ পর্যবেক্ষণ করে এসেছে। প্রায় ১৫০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ কালাগলা মানিকজোড় নিঃসন্দেহে এ দেশের বৃহত্তম পাখি। বিশালাকৃতির পাখি দুটি বক ও শামখোলের দলে মিশে বিলের অগভীর পানিতে মাছ, ব্যাঙ ও সরীসৃপ ধরে জীবন ধারণ করছে। তবে এ হাওরে বিষটোপ দিয়ে পাখি মারা হয় বলে ৬২ বছর পর পাওয়া অনন্য এ পাখি কত দিন সেখানে টিকে থাকবে, তা অনিশ্চিত। হাওরে ধৃত একটি কালাগলা মানিকজোড় পাখি এলাকাবাসীর কবল থেকে উদ্ধার করে বন বিভাগ সম্প্রতি সাফারি পার্কে স্থানান্তরিত করেছে। একই সময়ে সুন্দরবনে এ প্রজাতির আরও একটি পাখি দেখা গেছে।
মানিকজোড় পরিবারে পৃথিবীতে সর্বমোট ২৬ প্রজাতির পাখি আছে, যার আট প্রজাতি একদা বাংলাদেশে দেখা যেত। এর মাত্র দুটি প্রজাতি এখন এ দেশে বাস করে—এশীয় শামখোল ও ছোট মদনটাক। পর্যবেক্ষক দলের ধারণা, এখন থেকে বাংলাদেশে কালাগলা মানিকজোড়কে নিয়মিত আগন্তুক হিসেবে দেখা যাবে। এ পাখির বিস্তৃতি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউগিনি অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ। ভারতের গ্রামাঞ্চলে শস্যখেতের মাঝে দাঁড়ানো নিঃসঙ্গ বৃক্ষে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বরে এরা বাসা বাঁধে। ডালপালা দিয়ে গড়া মাচার বাসায় তিন-চারটি সাদা ডিম দিয়ে এরা বংশবৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করে। বাসা ছেড়ে যাওয়া বাড়ন্ত ছানারাই আহারের সন্ধানে হাকালুকি হাওরে এসেছে বলে পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন।
-প্রথম আলো, ২০১০-৪-১৯
যত মন্তব্য
khub sondor ekta article porlam...thnx
মন্তব্য করুন