কানাডায় এসে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ভুতুম দেখা হলো। আগেরবার বাজ-উৎসবে গিয়ে লক্ষীপেঁচা দেখেছিলাম। এবারে অজিবওয়ে ন্যাচার পার্কে। অজিবওয়ে আমার বাড়ির একদম কাছে। যেতে ১০ মিনিটের কম সময় লাগে।
ভুতুম দেখতে গেলে বনে যেতে হবে। শহুরের প্রকৃতিতে মাঝে মাঝে ভুতুম দেখা গেলেও তেমনটা আমার নজরে আসেনি। অজিবওয়ে পার্কে সেদিন মধ্যে যেতে যেতে বেশ খানিকটা বিকেল হয়ে গেল। আলসেমি কিছুটা দায়ী, আর বাকিটা প্রকৃতি। সকাল থেকেই টিপটিপ-টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে। এর মধ্যে আর যাই হোক, ক্যামেরা বের করতে আমি রাজি নই। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরেই গেলাম।
বনে ঢুকেই বুঝলাম আজ পাখি নাই। তবে বৃষ্টিস্নাত বন বিকেলের সোনা-রোদে ঝলমল করছে। বিকেলের রোদকে নাকি কনে দেখা আলো বলে। অনেকটা সেরকমই। তবে আলোর বিপরীত দিক থেকেও যে এত সুন্দর লাগে তা আগে তেমনভাবে লক্ষ্য করিনি।
ইতিউতি ঘোরার পরে পাখি না পেয়ে ফিরে আসবো এমন সময় দেখি কাঠের বাক্সের মধ্যে ভুতুম বসে আছে। এই বাক্সগুলো বানিয়ে দেয়া হয়েছে ভুতুম বা এধরনের পাখি যাতে বাসা বানিয়ে থাকতে পারে। শরীরের পুরোটা ভিতরে রেখে শুধু গলা থেকে মাথাটা বাইরে বের করে বসে আছে।

ছবি ৩: কাষ্ঠকুহরে ভুতুম (জুম করে দেখানো)
এমনই ক্যামোফ্লেজ নিয়ে বসে আছে যে ভাল করে লক্ষ্য না করায় এতদিন নজরেই পড়েনি। কী আশ্চর্য। একটু একটু কাছে যেতেই ভেতরে ঢুকে পড়ে। আমিও হাল ছাড়িনা, ক্যামেরা তাক করে দাঁড়িয়েই থাকি। এরকম মিনিট দু্য়েক থাকার পরে আবার বেরিয়ে আসে। আমি চুপচাপ, একদম নড়িনা। আমি নড়ছি কিনা সেটা নিশ্চিত হয়ে আবার ধ্যানে মগ্ন হয়। সেই ফাঁকে নিচের ছবিটা তুলি। (দেখুন কাঠের সাথে কেমন মিশে আছে, কী চমৎকার ক্যামোফ্লেজ!)
এদিকে সন্ধ্যা হয় হয় করছে, আলো কমে গেছে। একটু পরেই অন্ধকার নেমে এলে ভুতুমকে আর দেখা যাবেনা, কিন্তু ভুতুম আমাকে ঠিকই দেখতে পাবে। তারচে বরং বাড়ির দিকে এগোই।
এটি একটি Eastern Screech-Owl (Otus asio)
যত মন্তব্য
মন্তব্য করুন