Share |

ঢাকার পুকুরে কুমির

দৈনিক যায়যায়দিন, ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০০৭: খবর আসে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে৷ এক ভদ্রলোক মোবাইল ফোনে জানান, পুরনো ঢাকার হোসনি দালান ইমামবাড়ার (শিয়াদের ধর্মীয় স্থান) পুকুরে একটি কুমির পাওয়া গেছে৷ সেটি নাকি কংকৃটের ঘাটে বসে রোদ পোহাচ্ছে৷ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় হুলস্থূল কাণ্ড৷ গেটের ভেতরে পুলিশের পিকআপ৷

দলে দলে মানুষ ছুটছে পুকুরের দিকে৷ লোহার গৃল দেয়া পুকুরের চারদিকে তখন শত শত উত্সুক মানুষের ভিড়, হই-হল্লা৷ কিন্তু কুমিরটি চুপচাপ৷ ঘাটে বসে ছিল নির্বিকার৷

croc_jajadi.jpgইমামবাড়ার খাদেম শামসাদ আলী জানান, সকাল সাড়ে ৬টা-৭টার দিকে কুমিরটিকে ঘাটে বসে থাকতে দেখে তিনি বিস্মিত হন৷ আসলেই ওটি কুমির কি না তা নিশ্চিত হতে খুব কাছে যান৷ নিশ্চিত হয়ে সবাইকে খবর দেন৷ মুহূর্তেই সেখানে জড়ো হয় এলাকার শত শত মানুষ৷ পুরনো ঢাকার অন্যান্য এলাকা থেকেও মানুষ ছুটে আসে৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুমিরটি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একাধিকবার পানিতে নেমে এ ঘাট থেকে ও ঘাটে গেছে৷ বেশিক্ষণ পানিতে থাকেনি বা থাকতে পারেনি৷ ইমামবাড়ার মুয়াজ্জিন মোঃ জাফর হোসাইন কায়সার বলেন, বুঝতে পারছি না এটা ঠিক কিভাবে এখানে এলো৷

প্রথমত. পুকুরের সঙ্গে কোনো নদী বা খালের সংযোগ নেই৷ এখানে অজু-গোসলও নিষিদ্ধ৷ মাস দুয়েক আগে পুরো পুকুরের পানি সেচে মাছ ধরা হয়৷ সুতরাং আগে যদি কেউ এটি পালার জন্য পুকুরে ছাড়তো, তাহলে এতোদিনে একবার না একবার দেখা যেতো৷ তার ধারণা কেউ হয়তো সবার অগোচরে গৃল টপকে ভেতরে ঢুকে কুমিরটি পুকুরে ফেলে গেছে৷
ইমামবাড়ার সদস্য আলী মোহাম্মদ মন্তব্য করেন, কেউ মনে হয় খুব ছোট থাকতে কুমিরটাকে পালতে এনেছিল৷ কিন্তু যৌথ বাহিনীর ভয়ে হয়তো পুকুরে ফেলে গেছে৷ তিনি বলেন, প্রথম মনে হয়েছিল এটা গায়েবি৷ কিন্তু পরে দেখলাম এটার ছায়া আছে৷ গায়েবি জিনিসের তো ছায়া থাকে না৷

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কুমিরটা যে ইমামবাড়ার কেউ আনেনি, তাও নিশ্চিত নয়৷ সুতরাং বিষয়টা নিয়ে ভাবার অবকাশ আছে৷ স্থানীয় লোকজনও মনে করছে, কুমিরটা এখানে কিভাবে এলো তা খতিয়ে দেখা দরকার৷ কুমিরটি খুব বড় নয়৷ ধারণা করা হচ্ছে, এর বয়স চার-পাচ মাস হবে৷ কুমিরটিকে চিড়িয়াখানায় দিয়ে দেয়ার জন্য ইমামবাড়া কর্তৃপক্ষ চিড়িয়াখানায় যোগাযোগ করলে সেখান থেকে জানানো হয়, এটি বন ও পরিবেশ বিভাগের দায়িত্ব৷ ফলে সেখানে যোগাযোগ করা হলে বিকাল ৫টার দিকে বন বিভাগের লোকজন দড়ি দিয়ে বেধে বস্তায় পুরে কুমিরটি নিয়ে যায়৷

আপডেট: ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২৮ (bdnews24.com)-পুরান ঢাকার হোসেনি দালনের পুকুর থেকে উদ্ধার করা বিরল প্রজাতির কুমিরটি এখন বিচরণ করছে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের হ্রদে।

প্রকল্প পরিচালক তপন কুমার দের নেতৃত্বে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের্ব পার্কের কর্মীরা বুধবার সকালে পার্কের হ্রদে কুমিরটি ছাড়েন। নতুন এই সদস্য নিয়ে পার্কটিতে কুমির পরিবারের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৩ এ। এর আগে ভারত থেকে বিরল প্রজাতির ৪০ টি কুমির এনে সাফারি পার্কে ছাড়া হয়েছিল। তার মধ্যে আটটি মারা যায়।

তপন কুমার দে bdnews24.com কে জানান, হোসেনি দালানের পুকুর থেকে উদ্ধার করা কুমিরটির প্রজাতি বিলুপ্তপ্রায়। বর্তমানে বাংলাদেশে এ ধরণের মাত্র ৪০ টি কুমির রয়েছে। এর মধ্যে ৩২টি ডুলাহাজার সাফারি পার্কে এবং আটটি রয়েছে ঢাকা চিড়িয়াখানা, খুলনার খানজাহান আলীর মাজার ও সুন্দরবন বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে।


যত মন্তব্য

মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <div>
  • Lines and paragraphs break automatically.

ফরম্যাটিং অপশনস

By submitting this form, you accept the Mollom privacy policy.