অজগরের দেখা পাওয়া যায় অ্যানিমাল প্লানেট কিংবা ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলে। এদের সামনাসামনি দেখতে হলে যেতে হবে চিড়িয়াখানায়। কিন্তু পাহাড়-জঙ্গলের বিশাল আকৃতির এ প্রাণীগুলোকে ব্যস্ত রাজপথে দেখে গতকাল মঙ্গলবার আঁতকে উঠেছিলেন চট্টগ্রামবাসী। নিজের চোখকেই কেউ কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তবে সৌভাগ্যই বলতে হবে সাপগুলোর। আগ্রহী জনতার লাঠি-বৈঠার আঘাতে প্রাণ হারাতে হয়নি তাদের।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় খবর দেয়া হলে শেষমেশ তাদের ঠাঁই হয় চিড়িয়াখানায়। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো শৌখিন লোক অজগরগুলোকে পুষতেন। আইন-শৃঙ্খলা রৰাকারী বাহিনীর ভয়ে হয়তো তিনি বস্তায় ভরে সাপগুলোকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে যান।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে নগরীর তিনটি স্থান থেকে এ পাঁচটি অজগর উদ্ধার করা হয়। নগরীর সিটি গেট থেকে দুটি, সিআরবি এলাকা থেকে একটি এবং আমবাগান এলাকায় দুটি অজগর পাওয়া যায়।
চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা অজগরগুলোর মধ্যে সিটি গেট এলাকা থেকে পাওয়া দুটি অজগর ছিল আকারে বিশাল। একটি ১১ ফুট লম্বা অন্যটি ছিল ১৩ ফুট লম্বা। একেকটির ওজন দেড় থেকে দুই মণ। বাকি সাপগুলো ৮ ফুট লম্বা এবং ২০ থেকে ২৫ কেজি ওজনের।
অজগরগুলোকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় রিসিভ করে নেন সুপারভাইজার মুজিবুল হক। তিনি যায়যায়দিনকে জানান, সিআরবি থেকে উদ্ধার করা অজগরটি সকালে আর বাকি চারটি দুপুরে রিসিভ করা হয়। এগুলো এখন অজগরের খাঁচায় অবমুক্ত করে দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি অফিসার ডা. মনজুর মোর্শেদ যায়যায়দিনকে জানান, অজগরগুলোর আচরণ দেখে মনে হচ্ছে এগুলো গৃহপালিত। কেউ সম্ভবত শখ করে এগুলো লালন-পালন করছিল। যৌথ বাহিনীর অভিযানের ভয়ে অজগরগুলো ফেলা দেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় অজগরের খাঁচায় আটটি অজগর রয়েছে। গতকাল নিয়ে আসা আরো পাচটি মিলিয়ে এখন চিড়িয়াখানায় অজগরের সংখ্যা ১৩।
লিখেছেন মুরাদ মাওলা
যায়যায়দিন: ৭ মার্চ ২০০৭, চট্টগ্রাম।
যত মন্তব্য
মন্তব্য করুন