জানুয়ারির বিকেলে রকি মাউন্টেন আর্সেনাল বন্যপ্রাণির অভয়ারণ্যে

জানুয়ারির বিকেলে রকি মাউন্টেন আর্সেনাল বন্যপ্রাণির অভয়ারণ্যে


জানুয়ারি ১৯, ২০১৫। ডেনভার, কলোরাডো। আকাশে হালকা মেঘ। তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীত বলতে যেমনটা বোঝায় আবহাওয়া তেমনটা বলছে না। এক কথায় বসন্তের মত আবহাওয়া। ফুরফুরে চারিদিক। রকি মাউন্টেন আর্সেনাল ন্যাশনাল ওয়াইল্ড লাইফ রেফিউজ বা বন্যপ্রাণির অভয়ারণ্যে বাচ্চাদের নিয়ে সময় কাটাতে গেলাম।

আজ স্কুল কলেজ সব বন্ধ ছিল। মার্টিন লুথার কিং-ডে। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র-এর জন্মদিন স্মরণে আমেরিকায় সরকারি ছুটি আজ। বাচ্চাদের নিয়ে বিকেলের পরে বের হতে হতেই প্রায় সন্ধ্যা। আঘ-ঘন্টা ড্রাইভ করে সেখানে পৌঁছুতে পৌঁছুতেই সূর্য রকি মাউন্টেনের ওপাশে হেলে পড়েছে। ঘন্টা খানেক পরেই ডুবে যাবে।

মেঘলা থাকার কারণেই হোক আর শীতের জন্যই হোক চারিদিকে ভেজা ভেজা একটা ভাব রয়েছে। অভয়ারণ্যে প্রবেশ পথের আশেপাশেই বাইসনের দেখা মেলে। আজও তার ব্যতিক্রম হলনা। অন্যদিন হয়তো দেখা যেত বাইসনগুলো খেয়ে দেয়ে বসে বসে জাবর কাটছে, কিংবা বসে বসে ঝিমুচ্ছে; কিন্তু আজ দেখা গেলে এদের ছোট একটা দল রাস্তা পার হচ্ছে। একটা বেশ অগ্রগামি। সে সবার আগে রাস্তার ধার দিয়ে হেঁটে হেঁটে সামনে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আমি ইন্টারসেকশনের একটু আগে গাড়ি থামিয়ে ক্যামেরা বের করলাম।

অভয়ারণ্যের ভেতর মানুষ একেবারে নাই বললেই চলে। রিয়ারভিউ মিররে দেখলাম পিছনে কেউ আছে কিনা। নেই। থাকলেও সমস্যা নেই, কারণ গাড়ি থামিয়ে বন্যপ্রাণি অবলোকন করাই এখানে ঘোরাঘুরির মূল উদ্দেশ্য।

বেশ কয়েকটা ছবি তুললাম। এর মধ্যে ওয়ার্নিং সাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এই বাইসনটা যখনই আমার দিকে একটু তাকিয়েছে তখনই নিচের এই ছবিটি তুলেছিলাম। খুব শার্প আসেনি। আরো বেশ কয়েকটা ছবি তোলা উচিত ছিল। তাতে অন্তত একটা ভালো ছবি আসার সম্ভাবনা বেড়ে যেতো। ওয়াইল্ড লাইফের ছবি তুলতে গেলে অসীম ধৈর্য থাকতে হয় আর থাকতে হয় সৌভাগ্য। আজকে সৌভাগ্য মোটামুটি ভালো বলা যায়। বিনা অপেক্ষাতেই বাইসন পেয়ে গেলাম ক্যামেরার নাগালে।

রকি মাউন্টেন আর্সেনাল অভয়ারণ্যে বাইসন - এফ/৫.৬ ১/১৬০, আইএসও ২০০ ২০০মিমি

রকি মাউন্টেন আর্সেনাল অভয়ারণ্যে বাইসন – এফ/৫.৬ ১/১৬০, আইএসও ২০০ ২০০মিমি

এই রাস্তা ধরে সামনে এগুলেই দেখা যাবে বাইসনের পাল রাস্তা পার হচ্ছে। আমি এই জায়গায় গাড়ি নিয়ে বসে জানালা দিয়ে ছবি তুলেছি। পরের দুটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে বাইসনেরা গাড়ি আটকে রাস্তা পার হচ্ছে।

রকি মাউন্টেন আর্সেনাল অভয়ারণ্য  - এফ/২.৮ ১/৬৪০, আইএসও ১০০ ১২০মিমি

রকি মাউন্টেন আর্সেনাল অভয়ারণ্য – এফ/২.৮ ১/৬৪০, আইএসও ১০০ ১২০মিমি

রকি মাউন্টেন আর্সেনাল অভয়ারণ্য  - এফ/২.৮ ১/২৫০, আইএসও ১০০ ২০০মিমি

রকি মাউন্টেন আর্সেনাল অভয়ারণ্য – এফ/২.৮ ১/২৫০, আইএসও ১০০ ২০০মিমি

রকি মাউন্টেন আর্সেনাল অভয়ারণ্য  - এফ/২.৮ ১/২৫০, আইএসও ১০০ ২০০মিমি

রকি মাউন্টেন আর্সেনাল অভয়ারণ্য – এফ/২.৮ ১/২৫০, আইএসও ১০০ ২০০মিমি

বাইসনেরা পার হয়ে আস্তে আস্তে অভয়ারণ্যের ভেতর দিকে চলে গেল যেখানে আমাদের প্রবেশাধিকার নেই। ভূ-প্রকৃতি কিছুটা পাহাড়ি হওয়ার কারণে বাইসনগুলো ভিতরে ঢুকে একটা ঢালে ধরে নীচে নেমে যাওয়ায় রাস্তা থেকে ওদেরকে আর দেখা গেল না।

সামনে এগুতেই একটা জায়গা যেখানে হরিণেরা রাস্তা পার হয়। অনেক সময় এরা রাস্তার খুব কাছে চলে আসে। মানুষ থাকলেও এরা অনেক সময় নির্ভয়ে চরে বেড়ায়। এসময় গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধকরে বসে থাকলে এরা অনেক্ষণ মানুষের আশেপাশে চরে বেড়ায়। শব্দ শুনলেই এলার্ট হয়ে যায়।

রকি মাউন্টেন আর্সেনাল অভয়ারণ্য  - এফ/২.৮ ১/৩২০, আইএসও ১০০ ১২০মিমি

রকি মাউন্টেন আর্সেনাল অভয়ারণ্য – এফ/২.৮ ১/৩২০, আইএসও ১০০ ১২০মিমি

আজ সৌভাগ্যের কারণেই হয়তো অনেকগুলো হরিণ দেখা হল। কিন্তু আজকেই আমার বড় লেন্সটি নিয়ে আসিনি। যাহোক, কী আর করা, ২০০মিমি দিয়েই যতটুক ধরা যায়। পরে ক্রপ করে এই ছবিটি পেলাম।

রকি মাউন্টেন আর্সেনাল অভয়ারণ্য  - এফ/৪ ১/১৬০, আইএসও ২০০ ২০০মিমি

রকি মাউন্টেন আর্সেনাল অভয়ারণ্য – এফ/৪ ১/১৬০, আইএসও ২০০ ২০০মিমি

একটু পরেই সন্ধ্যা নেমে এল। এবার ফেরার পালা। ফেরার পথে এই সুন্দর ল্যান্ডস্কেইপটা ক্যামেরাবন্দি করলাম।

রকি মাউন্টেন আর্সেনাল অভয়ারণ্য  - এফ/৪, ১/২০০, আইএসও ১০০, ১০৫ মিমি,

রকি মাউন্টেন আর্সেনাল অভয়ারণ্য – এফ/৪, ১/২০০, আইএসও ১০০, ১০৫ মিমি,

প্রত্যেকটা ছবি ক্যানন ৬ডি এবং ৭০-২০০মিমি এফ/২.৮ জুম লেন্স দিয়ে তোলা। রকি মাউন্টেন আর্সেনাল নিয়ে আগের একটা লেখা পাওয়া যাবে এখানে

+ Leave a Comment

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.