নাইকন ডি৭০০০ ডিএসএলআর ক্যামেরা রিভিউ


নাইকন ডি৭০০০ ডিএসএলআর ক্যামেরা – ছবি Bernie, উইকিমিডিয়া কমন্স

রিভিউটি মূলত: ব্যবহারকারির প্রতিক্রিয়া হিসেবে লেখা হয়েছে — সম্পাদক

অনিক চমৎকার একটা ছোট্ট ক্যামেরা রিভিউ দিয়েছে। ক্যানন ৬ ডি, ফুলফ্রেম ক্যামেরা। দারুণ লাগলো। ফুল ফ্রেম ডিজিটাল ক্যামেরা আমার নেড়েচেড়েও দেখা হয়নি কখনো। মাঝে মাঝে যে তার কথা ভাবিনা তা নয়, তবে একমাত্র ওয়াইড এঙ্গেল আর উচ্চ আইএসও-তে ক্লিন ছবি ছাড়া এর অন্য সুবিধেগুলি এখনো ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। আর দামটাও নাগালের বাইরে থাকায় তা নিয়ে আপাতত আর কষ্টকল্পনা করতে চাইছিনা।

ছবি তোলা শুরু করেছি নিকনের ডি ৪০ দিয়ে। হাতেখড়ি হয়েছে ২০০৯ সালের গোড়ার দিকে, অনিকের মতই। অফিসের পুরনো মালপত্র হাতড়াতে গিয়ে একটা নিকন ম্যানুয়াল ৮৫মিমি এফ ২ পেয়েছিলাম পুরনো আমলের, সেইসাথে কিনে নিয়েছিলাম ৩৫মিমি এফ ১.৮ ডি এক্স আর ৫০মিমি এফ ১.৮ ডি। এই দিয়েই চলছিল বেশ কিছুদিন। ক্যামেরা হারালাম ৫০মিমি এফ ১.৮ সহ এইতো ২০১২ সালের আগস্টে। খুব মায়া জমে গিয়েছিল ক্যামেরাটির ওপর। কষ্ট পেয়েছিলাম খুব। বস্তু যে ভালবাসার পাত্র হয়ে যায় কালক্রমে, আগে বুঝিনি। এরপর কিছুদিন ক্যামেরাবিহীন থাকবার পর সিদ্ধান্ত নিলাম সস্তাদরে একটা পুরনো ডি ৮০ কিনব। কেনা হল। আর তার কিছুদিন যেতে না যেতেই একটা দারুণ ডিল পেয়ে মাত্র ৪৮,০০০ টাকায় কিনে ফেললাম ডি ৭০০০।

ডি এক্স কিংবা ক্রপ ক্যামেরা হিসেবে এ্যাডভান্স লেভেলে নিকনের রয়েছে ডি ৩০০, এর কিছুদিন পর বেরিয়েছিল সম্ভবত ডি ৩০০ এস। কিন্তু অনেক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে ডি এক্স ফরম্যাটে নিকন কোনও এ্যাডভান্স লেভেলের ক্যামেরা বাজারজাত করেনি। মিড লেভেলের কন্সিউমার ডি ৭০০০ এবং ডি ৭১০০ এসেছে বটে তবে নিকন ডি এক্স এ্যামেচারগণ চাতক পাখির মতন চেয়ে আছে কবে ডি ৪০০ আসবে তার দিকে। আমি অবশ্য এই পাখিদের দলে নেই, রিফারবিশড নিকন ডি ৭০০০ ব্যাবহার করছি দুই মাস হল। প্রথম যখন হাতে এল, তখন একদম নতুনের মতন লেগেছে। হাতে নিয়ে বেশ আরাম লাগে। বেশ শক্তপোক্ত ক্যামেরা বলেই ঠাহর হয়। এ পর্যন্ত নিকন ডিএসএলআর এর বডি আমার কাছে বেশ ভালই মনে হয়েছে। অভিযোগ নেই তেমন। ডি ৭০০০ এর নব গুলি আরও বেশী পোক্ত মনে হল। নিকন ডি ৮০র নবগুলি এত শক্ত ছিলনা। লাইভ ভিউর জন্য একটা অতিরিক্ত নব দেখছি, যা আগে কখনও ব্যাবহার করিনি, এখনও যে করছি তা নয় অবশ্য। ভিডিওর জন্য একটা নব রয়েছে বটে, এখনও ব্যাবহার করিনি। আর দেখছি দুটো এস ডি কার্ড ভরবার জন্য দুটো ঘর। ব্যাটারি ভাল না। এখন পর্যন্ত এক চার্জে পাঁচশো ছবি তুলতে পেরেছি। যদিও শুনেছি ১০০০ পর্যন্ত তোলা যায়। তাহলে আমারটায় ৫০০ কেন? রদ্দি মাল দিল নাকি?

আরেকটি ব্যাপার খেয়াল করছি যে ক্যামেরা বেশ গতিসম্পন্ন। মানে শাটার টেপার অভিজ্ঞতা খুব আরামদায়ক। হাল্কা প্রেস করলেই ছবি উঠে বসে থাকছে। বিশেষ করে ৩৫মিমি এফ ১.৮ টা লাগিয়ে এই গতির ব্যাপারটা খুব ভালোভাবে টের পাচ্ছি। ইমেজের গুণও বেশ আলাদা মনে হচ্ছে ডি ৮০র চাইতে। ৬৪০০ পর্যন্ত আইএসও- তে ছবি অনেক পরিষ্কার। ডি ৮০ তে ১৬০০ এর ওপর উঠলেই গ্রেইন চলে আসত। ডিম আলোতেও দেখছি ডি ৭০০০ এ মোটামুটি বেশ পরিষ্কার ছবি উঠছে। আবার সাধারণ জেপেগ ছবির মান ডি ৮০র চাইতে ভাল মনে হচ্ছে। স্কিন টোন থেকে শুরু করে রঙ, স্যাচুরেশন, কন্ট্রাস্ট একটু ভাল মনে হল। আমি কখনো র তে ছবি তুলিনি তাই বলতে পারছিনা র তে ক্যামন ওঠে ছবি। ডি ৭০০০ এর ভিউ ফাইন্ডার আমার ডি ৮০র চাইতে একটু বড় মনে হচ্ছে। বড়, উজ্জ্বল, পরিষ্কার। আর কিছু লাগে? আমি যেহেতু ফিল্মক্যামেরা দিয়েও ছবি তুলি, তাই ভিউফাইন্ডার বড় না হলে ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তুলে আরাম পাইনে। এই ক্যামেরায় আরেকটি বৈশিষ্ট্য আছে, এ ডি আর। মেন্যুর ভেতর এটি অন করে রাখলে ছবিগুলি বেশ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এই সুবিধেটি আমি ডি ৪০ কিংবা ডি ৮০ তে দেখিনি। তবে এ ডি আর সম্পর্কে বিশদ বলতে পারবনা। দেখতে হবে!

আমার ৮৫মিমি এফ ২ লেন্সের কথা আগেই বলেছি। যেহেতু এই লাইনে আমি নতুন, এই লেন্স আমি কোনদিনই ভাল করে ব্যাবহার করতে পারিনি। একে তো ম্যানুয়াল মিটার করার ঝামেলা তারপর আবার ম্যানুয়াল ফোকাসিং। জেরবার হয়ে যাই ছবি তুলতে গিয়ে। কিন্তু এই লেন্সের সুইট স্পট এফ ৫.৬ এ যে শার্প ছবি পেয়েছি, তা খুব সন্তুষ্ট করেছে। মজার ব্যাপার হল ডি ৭০০০ এ মোট নয়টি ম্যানুয়াল লেন্স যুক্ত করা যায় যদি ক্যামেরার মেন্যুতে এই লেন্সগুলির বিবরণ সংযোজন করা হয়। এইটা আমার জন্য দারুণ সুখবর। এর মানে হল আমি আমার ৮৫মিমি এফ ২ লেন্সের জন্য মেট্রিক্স মিটার পাচ্ছি। এক্সপোজার নিয়ে আর ঝামেলা হবেনা।

তবে একটা ব্যাপার খেয়াল করছি যে কিট লেন্স ১৮-৫৫ তে কেন যেন মন মতন ইমেজ কোয়ালিটি পাচ্ছিনা। বিশেষ করে ১৮ এন্ডে অল্প আলোয় অনেক ফ্লেয়ার দেখছি। এই ব্যাপারটা আগের ডি ৪০ এ এতটা খেয়াল করিনি। তাই একবার সেই যে ৩৫মিমি এফ ১.৮ মাউন্ট করেছি ক্যামেরায়, তা আর খোলাই হয়নি! মাত্র ২০০ ডলারে এত ভাল লেন্স পাওয়া যায়, আমার কাছে মাঝে মাঝে অবিশ্বাস্য মনে হয়! মনে হচ্ছে নিকন ডি ৭০০০ এর সাথে ৩৫মিমি এফ ১.৮ ডি এক্স লেন্সের মিলনটা সত্যিই একটি কিলার কম্বিনেশন হয়েছে!

7 Comments

Add yours
  1. 1
    nurulamin

    ৩৫মিমি লেন্স ডিএক্স ক্যামেরায় প্রায় ৫০মিমি ভিউ দেয় অর্থাৎ স্বাভাবিক ফিল্ড অফ ভিউ। এছাড়া জুম লেন্স থেকে প্রাইম লেন্স সব সময় দ্রুত কাজ করে ও শার্প ছবি দেয় ।

  2. 2
    Enayet

    আমি শর্ট ফোকালের মধ্যেও জুম প্রেফার করি। যদিও প্রাইমের কোয়ালিটি জুমের থেকে থিউরেটিক্যালি ভালো হওয়ার কথা। তবে ৩৫মিমি এফ ১.৮ অবশ্যই ফাস্ট লেন্স। ফাস্ট লেন্সে তোলা ছবি অসাধারণ লাগে, বিশেষ করে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করে তোলা ছবিগুলো।

    প্রাইমের সমস্যা হলো একাধিক ক্যামেরা সাথে রাখতে হয় 🙁

    আচ্ছা, ক্যাননের ৭০-২০০ এফ ২.৮ এর সমতুল্য নাইকনের লেন্স কোনটি?

  3. 3
    মনি শামিম

    সহমত। আমি ৩৫ ১.৮ দিয়ে দারুণ শার্প ছবি পাই। আর তাছাড়া এক ক্যামেরা এক লেন্স- নীতি প্রয়োগ করছি এখন। ছবি কম তুলছি, কম্পোজিশনের ওপর নজর দিচ্ছি। প্রাইম লেন্স এক্ষেত্রে বেশ কাজে দিচ্ছে।

  4. 4
    মনি শামিম

    এনায়েত ভাই, নাইকনের ৭০-২০০ এফ ৪ আর ৭০-২০০ এফ ২.৮ রয়েছে তো। প্রাইম দিয়ে ছবি তুলে আমি আরাম পাই। আর একটু আগু পিছু করে ছবি তুলতে হয় বলে একটা ভাবও আসে। কম্পোজিশন ভালো হয়, অন্তত আমার ক্ষেত্রে হয়। শার্প ছবি, বড় এপারচার, ফাস্ট শাটার, ব্লার ব্যাকগ্রাউন্ড- এইসব তো আছেই। আমি আমার ১৮ ৫৫ লেন্সের ১৮ মিমি দিয়েই কাজ চালাই সবসময়।

    মনি শামিম

  5. 5
    Enayet

    মনি,
    আমি ডিএসএলআরে প্রাইম কখনো ব্যবহার করিনি। হয়তো প্রাইমের মজাটা ব্যবহার করলে বোঝা যাবে। প্রাইম শেষবার ব্যবহার করেছি তাও ১৫ বছর আগে। তখন ডিএসএলআর ছিল না।

  6. 6
    মনি শামিম

    এনায়েত ভাই,

    ডিএসএলআর এ আসার আগে চার বছর ফিল্ম ক্যামেরা ব্যাবহার করেছি। ফিক্সড লেন্স ব্যাবহার করার তো হয়ে গেল অনেক দিন। এইবার একটা প্রাইম লেন্স কিনে ব্যাবহার শুরু করে দিন। এনায়েত ভাই, আমি আজ সকালে নাইকনের বিগিনার ডিএসএলআর গুলির একটা তুলনামূলক বিশ্লেষণ করছিলাম স্পেসিফিকেশন বেছে বেছে। ২০০৬ এ বের হওয়া ডি ৪০ থেকে হালের ডি ৩৩০০ পর্যন্ত। আপনাদের ব্লগে দেব কিনা ভাবছি। সমস্যা হল আমি আবার সচলে লিখি। তো একই লেখা দুইটি ভিন্ন ব্লগে প্রকাশ করাটা ঠিক শোভন নয় মনে হয়। আর একটা বিষয়, নিসর্গ তে লেখা জমা দিতে গেলে কিভাবে দিতে হয় তাও জানিনা। একটা পরামর্শ দিন। আপনার বদৌলতে নেমে পড়লাম যখন এই লাইনে, তখন আরও কিছু লেখা আসুক!

  7. 7
    Enayet

    সচলায়তনের নিময় মেনে ৭২ ঘন্টা পরে আপনি এখানে দিয়েন। আপনি চাইলে এখানে একাউন্ট করতে পারেন। আমি করে দিতে পারি। আর না হয়, আমার কাছে ইমেইলে পাঠিয়ে দিয়েন। মেসেজে ইমেইল ঠিকানা পাঠাচ্ছি।

    নিসর্গকে আমি ব্লগ বলতে চাইনা। এটাকে অনলাইন পত্রিকা বলি।

    অনেক ধন্যবাদ। আপনার লেখার অপেক্ষায় থাকলাম।

+ Leave a Comment

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.