এন্ট্রি লেভেল নাইকন ডিএসএলআর ক্যামেরা – তুলনামূলক রিভিউ


২০০৬ সাল থেকে এযাবতকালে নাইকন কোম্পানি বেশ কয়েকটি এন্ট্রি লেভেল  ডিএসএলআর ক্যামেরা বাজারজাত করেছে। এসব ক্যামেরায় নতুন কী এসেছে এবং বিগত দিনগুলিতে এন্ট্রি লেভেল নাইকন ক্যামেরাগুলোতে কতটা উন্নতি সাধন হয়েছে সেসব নিয়ে লিখেছেন মনি শামিম। –সম্পাদক

যারা ডিএসএলআর ক্যামেরা একটু ছুঁয়ে ধন্য হতে চায়, যারা এসএলআর ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে পরের ঈর্ষার কারণ হতে চায়, যারা অনেকদিন ধরে টাকা পয়সা জমিয়ে একটি এসএলআর কেনার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে চেয়েছে একটু একটু করে- তাদের জন্য নাইকন কোম্পানি প্রথম নাইকন ই এম ১৯৭৯ সালে বাজারজাত করেছে, এরপরে এসেছে নাইকন এফ জি। তবে বাজারে নাইকনের আরেকটু উঁচুদরের ক্যামেরার কদরই ছিল বেশী। নাইকন এফ ই কিংবা এফ এ কিংবা এফ এম সারা বিশ্বে অগুনতি বিক্রি হয়েছে, বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে, মিথে পরিনত হয়েছে এদের অনেকেই। কিন্তু ষাট, সত্তর এমনকি আশির দশকেও ক্যামেরা সেইভাবে ভোক্তাদের নাগালের ভেতরে আসেনি। বিশেষ করে আমাদের দেশে শখ হিসেবে ক্যামেরা ব্যাবহার জনপ্রিয়তা পেয়েছে ডিজিটাল যুগে।

ফিল্মের যুগে শুধু প্রফেশনালরাই বাজার মাতিয়ে রেখেছিলেন আর রমরমা ছিল স্টুডিয়োর। সেখানে শৌখিন কারো হাতে ক্যামেরা থাকা মানে আকাশ কুসুম কল্পনা। যদিও ইউরোপ আমেরিকায় তখন চলছে ক্যামেরার বাজার দখলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কে নেই সেই লড়াইয়ে- নাইকন, ক্যানন, লাইকা, অলিম্পাস, পেন্টাক্স, মিনলটা, কোডাক, ফুজি আরও কত কি!

সত্তর পেরিয়ে আশির দশকে অটোফোকাস এর যুগে ক্যানন থেকে কিছুটা পিছিয়ে পরেছিল নাইকন, অন্তত বাজারের প্রতিযোগিতায় আবার টিকতে না পেরে বাজার থেকে ছিটকে পড়েছিল মিনলটার মতন ডাকাবুকো কোম্পানি। একই ধারায় নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে হাল আমল পর্যন্ত ডিজিটাল সময়েও নাইকন পিছিয়ে রয়েছে ক্যানন থেকে। তবে এমনিতর বাজারের হিসেব নিকেশের বাইরেও নাইকনের রয়েছে শক্ত পোক্ত ফ্যান বেজ। অটোফোকাসের যুগে ক্যানন তাঁদের মাউন্ট পরিবর্তন করে নতুন যুগে প্রবেশ করলেও নাইকন তা করেনি।

ফলে আজ অব্ধি নাইকনের যে কোন ডিএসএলআরে তাদের ১৯৬১ সালে সাল থেকে নির্মিত লেন্স মাউন্ট হবে। এটি যুগের বিবেচনায় তেমন গুরুত্বপূর্ণ ক্যামেরা অনুষঙ্গ না হলেও অনেক নস্টালজিক চিত্রগ্রাহকদের মনে আনন্দের বার্তাবাহী।

অর্থাৎ যদি আমার বাবার ত্রিশ কি চল্লিশ বছরের পুরনো কোন লেন্স থাকে অথবা কেউ যদি পুরনো লেন্স বিক্রি করতেও চায় তবে সেগুলি ধরে ধরে এনে আমি এইসব ক্যামেরায় তা দিয়ে ছবি তুলতে পারি। লিগেসি লেন্সগুলি যেমন এ আই অথবা এ এস আই কিংবা প্রি এ আই লেন্স সবই মাউন্ট হবে যে কোন নাইকন ডিএসএলআর এ। তবে হ্যাঁ, মিটার হবেনা, ফোকাস হবেনা। কিন্তু এই লিগেসি লেন্সগুলি ব্যাবহার করার সুযোগ মিলবে। এই লেন্সগুলি হল অক্ষয় লেন্স। অসাধারণ নির্মাণগুন সমৃদ্ধ, পুরো মেটাল বডি, ভারী কিন্তু তীক্ষ্ণ, আর আপনার বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়ে থাকবে সারাজীবন। কেউ আপনার ক্যামেরা ছিনতাই করতে চাইলে এই মেটাল দিয়ে চালিয়ে দেবেন দুই ঘা। বাপ বাপ করতে করতে পালাবে ছিনতাইকারী। আর পুরনো লেন্স নতুন লেন্স সব মিলিয়ে এই সিস্টেমের সাথে এক আন্তরিক হৃদ্যতা পূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে কালক্রমে। ক্যামেরার সাথে বন্ধুত্ব গড়ে না উঠলে, ক্যামেরা নামক বস্তুটির প্রতি ভালোবাসা না জন্মালে ছবি তুলেও তো আনন্দ পাওয়া যাবে না।

ম্যানুয়াল ফিল্ম ক্যামেরা, ইলেকট্রনিক এসএলআর পেরিয়ে এখন ডিজিটালের জয় জয়কার। ২০০৬ সালে বাজারে এসেছিল নাইকনের ডি ৪০ আর হালে ২০১৪ সালের গোড়ায় বাজারে এল ডি ৩৩০০, এই নয় বছরে নাইকন বাজারে এনেছে সাত সাতটি শিক্ষানবিস ডিএসএলআর। বোঝাই যায় বাজার চাহিদা কোনদিকে! তবে মজার ব্যাপার হল এই নয় বছরে এইসব ক্যামেরা ব্যাবহার, আকার আঙ্গিকে খুব বেশী পরিবর্তন আসেনি। এমন কি ইমেজ গুনেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। তবে বিগিনার ডিএসএলআর বাজারজাত করার ক্ষেত্রে নাইকনের যে বৈশিষ্ট্যগুলি তাঁরা নির্ধারণ করেছিল, যেমন কমপ্যাক্ট বডি, সহজ ব্যাবহার, ইমেজ গুনে আপোষ না করা, সীমিত মুল্য, নাইকনের ফ্যান বেজ ধরে রাখা, বিক্রি বাড়ানো- এই সবগুলি ব্যাপারেই নাইকন অনেক অংশেই সফল হতে পেরেছে। শুধু তাই নয় বিগিনার ডিএসএলআর গুলিতে তারা ষাট দশকের লেন্স মাউন্ট করার সুযোগ হারাতে দেয়নি। এই সবগুলিই পজিটিভ হিসেবে বিবেচনা করবার মতন।

এক নজরে আমরা এইসব ক্যামেরার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি দেখে নিলে পার্থক্যগুলিও বিশ্লেষণ করতে পারব। প্রথমেই সারণিতে তুলনামূলক চিত্রটি দেখা যাক।

ডি৪০ডি৪০ এক্সডি৬০ডি৩০০০ডি৩১০০ডি৩২০০ডি৩৩০০
মূল্য$৫৯৯$৭৯৯$৭৫০$৫৯৯$৬৯৯ $৬৯৯ $৬৫০
বডিপ্লাস্টিকপ্লাস্টিকপ্লাস্টিকপ্লাস্টিকপ্লাস্টিকপ্লাস্টিকপ্লাস্টিক
মেগাপিক্সেল৬.১১০.২১০.২১০.২১৪.২২৪২৪
আইএসও রেঞ্জ২০০-১৬০০, বুস্ট ৩২০০১০০-১৬০০, বুস্ট ৩২০০ ১০০-১৬০০, বুস্ট ৩২০০ ১০০-১৬০০, বুস্ট ৩২০০ ১০০-১৬০০, বুস্ট ৩২০০ ২০০-৩২০০, বুস্ট ১২৮০০ ১০০-১২৮০০, বুস্ট ২৫৬০০
ফ্রেইম প্রতি সেকেন্ডে২.৫
এলসিডি প্যানেল সাইজ২.৫২.৫২.৫
পেন্টা মিরর
ভিউ ফাইন্ডার কাভারেজ
৯৫%৯৫%৯৫%৯৫%৯৫%৯৫%৯৫%
ফ্লাশ সিঙ্ক১/৫০০১/৫০০১/৫০০১/২০০১/২০০১/২০০১/২০০
সাটার স্পিড৩০ -১/৪০০০৩০ -১/৪০০০৩০ -১/৪০০০৩০ -১/৪০০০৩০ -১/৪০০০৩০ -১/৪০০০৩০ -১/৪০০০
ফোকাস পয়েন্ট সংখ্যা১১১১১১১১
লাইভ ভিউনেইনেইনেইআছেআছেআছেআছে
ভিডিওনেইনেইনেইআছেআছেআছেআছে
প্রকাশকাল২০০৬২০০৭২০০৮২০০৯২০১০২০১৩২০১৪

মুল্য

গত নয় বছরে সাতটি ক্যামেরার বাজার মুল্যের বড় কোন তারতম্য দেখিনা। একমাত্র নাইকন ডি ৪০ এক্স এর প্রবেশ মূল্য ৮০০ ডলার ছুঁইছুঁই। এছাড়া অন্য সব ক্যামেরার প্রবেশ মুল্য দেখছি ৬০০ থেকে ৭৫০ ডলারের মধ্যেই ঘুরপাক খেয়েছে। মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে, নাইকন কেন এইসব বিগিনার ক্যামেরার দাম কমাতে পারেনা। বিক্রির সংখ্যা বিবেচনায় আনলে এইসব বিগিনার ক্যামেরাই সবচাইতে বেশী বিক্রি হয় বাজারে। কিছুটা দাম কমিয়ে ক্যামেরা বিক্রির পরিমান আরও বাড়িয়ে দেয়ার কথা কি ভাবেনি নাইকনের জাপানী মালিকেরা?

মেগাপিক্সেল

আমরা যারা ফেসবুক জেনারেশন, আমরা যারা তিন বছরে পঞ্চাশ খানেক ছবি প্রিন্ট করে থাকি, তাদের জন্য ৬ মেগাপিক্সেল আর ২৪ মেগাপিক্সেলের মধ্যে তেমন পার্থক্য আছে কি? মেগাপিক্সেল বাড়লেই ইমেজ গুন বাড়বে এমনটা কতটা মিথ আর কতটা বাস্তব? আর মেগাপিক্সেল বাড়িয়ে নাইকন কি সেই অনুযায়ী কোয়ালিটি কিট লেন্স নির্মাণ করতে পেরেছে? আমরা দেখতে পাচ্ছি ২০০৬ সালে যে ক্যামেরায় ৬.১ মেগাপিক্সেল ছিল নয় বছরের ব্যাবধানে তাতে আরও ১৮ মেগাপিক্সেল যোগ করা হয়েছে। এমনকি ২৪ মেগাপিক্সেল ই এখন নাইকনের জন্য স্ট্যান্ডার্ড। এর চাইতে কম আর গ্রহণযোগ্য নয়। মাত্র ছয় বছরে এত বড় পরিবর্তন আসলে কতটুকু কাজের কিংবা কতটুকু একেবারেই বাজারের চাহিদা নির্ভর সেইটা প্রশ্ন সাপেক্ষ।

আইএসও

আইএসও বেশী হলে অনেক সুবিধে। স্বল্প আলোয় পরিষ্কার ছবি তোলার ক্ষেত্রে উচ্চ আই এস ও এর বিকল্প ইদানিং কম। নয় বছর আগে নাইকন ডি ৪০ তে আমরা ১৬০০ পর্যন্ত বেশ গ্রেইন বিহীন ছবি পেয়েছি। এখন সর্বোচ্চ আইএস ও ৩২০০ থেকে ২৫৬০০ তে গিয়ে পৌঁছেছে। এই উল্লম্ফন ক্যামেরা ব্যাবহারকারিদের বাড়তি কিছু সুবিধে এনে দিয়েছে নিশ্চয়ই।

ফ্রেম পার সেকেন্ড

সাত বছর আগে নাইকন ডি ৪০-এ এক সেকেন্ডে আড়াইটি ছবি উঠত। এখন তা দ্বিগুণ হয়েছে। নাইকনের মিড রেঞ্জের কঞ্জিউমার ক্যামেরা ডি ৭০০০ এর ফ্রেম পার সেকেন্ড হল ৬, সেটি বিবেচনায় আনলে বলতেই হয় নবীন শিক্ষার্থীদের ক্যামেরা এখন অনেক গতিশীল। এই জায়গাটিতে নাইকনের উত্তরোত্তর উন্নতি হয়েছে বলা যায়।

ভিউ ফাইন্ডার

ক্যামেরার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হচ্ছে ভিউ ফাইন্ডার। ডিএসএলআর ব্যাবহার করার অনেক আনন্দ এই বিষয়টায় নিবদ্ধ। মজার ব্যাপার হল গত নয় বছর এই একটি জায়গায় কোন পরিবর্তন আসেনি। নাইকন ভিউ ফাইন্ডারের ক্ষেত্রে পেনটা মিরর ব্যাবহার করে থাকে, গ্লাস প্রিজম নয়। এই ভিউ ফাইন্ডার একাধারে ছোট এবং এর কভারেজও শতভাগ নয়। অর্থাৎ আপনি যা যে ছবি তুলবেন তার মাত্র ৯৫ শতাংশই ভিউ ফাইন্ডারে দেখতে পাবেন। কয়েকটি কারণে মনে হয় নাইকন তাদের এইসব ক্যামেরায় গ্লাস প্রিজম ব্যাবহার করেনি। কারণগুলি হল ক্যামেরার আকার, ওজন এবং মুল্য বেড়ে যাবার হাত থেকে নিজেদের মুক্ত রাখা।

ব্যাক এলসিডি

নাইকনের ব্যাক এলসিডি সাত বছরে আকারে বেড়েছে। নয় বছরে তারা এলসি ডির আকার পাঁচ ইঞ্চি বাড়িয়েছে, পিক্সেল ঘনত্ব বেড়েছে তিন গুন। এগুলি ছাড়া তারা এই এলসিডিতে তেমন পরীক্ষা নিরীক্ষা করেনি। এই এলসিডি টিল্ট কিংবা শিফ্ট করা যায়না, এমনকি টাচ প্রযুক্তিও ব্যাবহার করা হয়নি এখনো।

শাটার

নাইকনের বিগিনার ক্যামেরার শাটার সাইকেল কত? অর্থাৎ ঠিক কয়টি ছবি এই ক্যামেরায় তোলা সম্ভব? এর সঠিক উত্তর স্পেসিফিকেশনে পাওয়া না গেলেও ধারণা করা যায়, এইসব ক্যামেরার শাটার সাইকেল প্রায় লক্ষাধিক। শাটার রেঞ্জের কোন পরিবর্তন হয়নি। ৩০ সেকেন্ড থেকে ১/৪০০০ থেকেছে প্রথম থেকেই। বরং আমরা দেখছি ফ্ল্যাশ সিঙ্ক বরং কমেছে। যেখানে ডি ৪০ এ ছিল ১/৫০০, সেখানে ডি ৩৩০০ তে এসে দাঁড়িয়েছে ১/২০০। দুঃখজনক হল যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে ডি ৪০ যাত্রা শুরু করেছিল এই জায়গায়, নাইকন তা ধরে রাখতে পারেনি।

ফোকাস পয়েন্ট

ফোকাস পয়েন্ট বাড়ানোর ক্ষেত্রে নাইকন পিছিয়ে নেই। শুরু করেছিল ৩ টি পয়েন্ট দিয়ে, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ তে। এখানে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে নাইকন। ভাল লক্ষণ বলা যেতে পারে।

ভিডিও

আমি নিজে স্থির চিত্র ধারণকারী ক্যামেরায় চলচ্চিত্র ধারণ করা পছন্দ করিনা। তবে তাই বলে ভোক্তাদের চাহিদা তো আর থেমে নেই। কাজেই নাইকনের ক্যামেরায় যুক্ত হয়েছে ভিডিও। শুরু হএছে নাইকন ডি ৩০০০ দিয়ে, তারপর থেকে চেষ্টা থেকেছে কিভাবে ফ্রেম রেট বাড়ানো যায় তার দিকে। একবারে নতুন ক্যামেরায়ও ১৯২০*১০৮০ তে ৬০ ফ্রেমের ছবি তোলা যাচ্ছে এখন।

বডি

নাইকনের বডির ক্ষেত্রে তেমন পার্থক্য এসেছে কি? আকারে এটি আরও খানিক ছোট হয়েছে বোধ করি। নাইকনের বডি বরাবরের মতই ওয়েদার সিলড নয়। এই বডি পুরোটাই প্লাস্টিক দিয়ে নির্মিত। অল্পসামান্য রাবার গ্রিপ রয়েছে বটে গ্রিপ ধরার জন্য। ওজনও অপরিবর্তিত রয়েছে কম বেশী। নাইকনের বডি তারপরেও বেশ আকর্ষণীয় আর ব্যবহারের সুবিধার কারণে অনেক বেশী আগ্রহ সৃষ্টিকারী। ক্যামেরার সাথে বন্ধুত্ব হতে সময় লাগেনা! নাইকনের বডিতে বরাবরই ডাইরেক্ট কন্ট্রোল কম। মেন্যুতে টেপাটেপি করতেই হয় । এই ক্যামেরাগুলিতে টপ এইলসি ডি নেই, নেই এক্সপোজার ডায়াল। কিছু কন্ট্রোল ডায়াল যুক্ত করলে মন্দ হতনা। কিপ্টেমি নাইকন করেছে নন ‘জি’ লেন্স অটোফকাস করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। কাজেই বিংশ শতকের কতিপয় জি লেন্স ছাড়া কোন লেন্স ফোকাস হবেনা। এইটা নাইকন ব্যাবহারকারিদের জন্য খানিক বিপর্যয় বলা যেতে পারে। হোয়াইট ব্যালান্স অবশ্য এখন অনেক বেশি কাস্টমাইজেবল। এইটা ভাল দিক। নাইকন এখনও ওয়াই ফাই যুক্ত করেনি। কেন করেনি, কে জানে! জি পি এস সুবিধাও নেই এই বডিতে!

একটু ভালমতন দেখলে বোঝা সম্ভব যে বিগিনারদের ডি এস এল আর বাজারজাত এবং জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে নাইকন বেশ উদ্যোগী ভূমিকা নিলেও আহামরি কোন পরিবর্তন তাদের বডিগুলিতে আনেনি। নয় বছরে সাতটি বিগিনারদের জন্য ক্যামেরা জানান দেয় যে এইসব ক্যামেরা বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। নিছক যদি ব্যাবহারের কথা বলি তাহলে এইটা নিশ্চয়ই বলে দেয়া যায়, বেশ আরাম আছে নাইকন ব্যবহারে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য অনেক ক্ষেত্রে নাইকন হয়তো আপোষ করেছে তবে নাইকনের ইমেজ গুন এখনো অটুট। কিছু বেসিক সেটিং ঠিক করে নিলে অসাধারন ইমেজ পাওয়া যায় এই ক্যামেরাগুলিতে। যারা একবার নাইকন ব্যবহার শুরু করেছেন তারা হয়ত একে কেন্দ্র করেই একটি সিস্টেম দাঁড় করাবার কথা চিন্তা করতে পারেন। নাইকনের ডি এক্স রেঞ্জের লেন্সের সংখ্যা কম বলে হা হুতাশ না করে বরং যা আছে তা নিয়ে মাঠে নেমে পড়লে লাভ বই ক্ষতি নেই কোনও।

যে ব্যাক্তি আজ একটি পুরনো ডি ৪০ কিনলেন আর যে ব্যাক্তি একদম ব্র্যান্ড নিউ  ডি ৩৩০০ কিনবেন তারা কতটুকু কি জিতবেন কিংবা কোথায় হারবেন? নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে ইমেজ গুনের মধ্যে বড় কোন পরিবর্তন আসবে না। গত নয় বছরে নাইকন বিগিনার ডি এস এল আর এর ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোন পরিবর্তন করেনি। বছর বছর যে ক্যামেরাগুলি তারা বাজারজাত করেছে সেগুলিকে রিফ্রেশ সেগমেন্ট বলা যেতে পারে হয়ত। ২৪ মেগাপিক্সেল কিংবা ২৫৬০০ আইএসও, লাইভ ভিউ এবং ভিডিওর সুচনা, পাঁচ ফ্রেম পার সেকেন্ড, এ ডি আর কিংবা একটিভ ডি লাইটিং এর অন্তর্ভুক্তি খানিকটা বাড়তি সুবিধে এনে দেবে হয়ত, তবে এটুকুই!

আমি নিজে তিন বছর ডি ৪০ ব্যবহার করেছি, আবার একইসাথে ডি ৩১০০ ব্যাবহার করে দেখেছি ইমেজ গুনে তেমন পার্থক্য নেই। বাজারে এখন নাইকনের অনেক ধরণের ক্যামেরা। বিগিনার ডিএসএলআর ছাড়াও নাইকনের রয়েছে কঞ্জিউমার মিড রেঞ্জের ডি ৮০, ডি ৯০, ডি ৭০০০, ডি ৭১০০, এর মাঝামাঝি স্বরূপ আছে ডি ৫০০০, ডি পর ৫১০০, ডি ৫২০০ এবং ডি ৫৩০০, এইসব নিয়ে তুলনামুলক আলোচনা হয়ত চলতে পারে।

যারা নাইকনের ডিএসএলআরে হাতেখড়ি করতে চান তারা অবশ্যই বিগিনার দিয়ে শুরু করতে পারেন। আর শুরু করলে পুরনো না কিনে নতুন কেনারই পরামর্শ দেয়া ভাল। কারন ডিজিটাল ক্যামেরার বডির রিসেল ভ্যালু কমে যায় সময়ের সাথে। আর একদম নতুন ক্যামেরা কিছুদিন অপেক্ষা করার পর কিনলে ভাল ডিল পাওয়া যায়।

যে ক্যামেরা বাজারে এল ৭০০ ডলার দামে, মাস চার পাঁচ অপেক্ষা করলে সেই ক্যামেরার নানান ডিল পাওয়া যায়, দামও কমে যায় বেশ খানিকটা। তাই পুরনো ডি ৬০ কেনার চাইতে নতুন ডি ৩৩০০ কেনাই ভাল। আর ক্যামেরা কেনার পর লেন্স হিসেবে ১৮-৫৫ মিমি, ৩৫ মিমি এফ ১.৮ এবং ৫৫-২০০ মিমি ভি আর তো আছেই।

একটি বিগিনার ডি এস এল আর হতে পারে আপনার সারা জীবনের সঙ্গী। আপনার জগতকে দেখার চোখই বদলে যেতে পারে আপনার সাধের ক্যামেরার কল্যাণে, অবারিত ফটোগ্রাফিক সুযোগ এসে পড়তে পারে আপনার হাতের মুঠোয়। পোর্ট্রেট, ল্যান্ডস্কেপ, স্ট্রিট, টেলি, ম্যাক্রো আর সেইসাথে কত সহস্র মুহূর্ত অপেক্ষায় আছে আপনার। শুধু একটা বিগিনার ডি এস এল আর আর যৎসামান্য লেন্স। ব্যাস!

হ্যাপি ক্লিকিং!

1 comment

Add yours
  1. 1
    Enayet

    লেখার সাথে তুলনামূলক একটা চিত্র দেয়া গেলে আরো প্রাণবন্ত হতো। যে মডেলগুলো আলোচনায় আনা হয়েছে সেগুলোর ছবি একসাথে জুরে দিয়ে একটা কোলাজের মতো ছবি দেয়া যায় কিনা চিন্তা করে দেখুন।

+ Leave a Comment

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.