ক্যানন ৬ডি ফুল-ফ্রেম ডিএসএলআর ক্যামেরা রিভিউ

ক্যানন ৬ডি ফুল-ফ্রেম ডিএসএলআর ক্যামেরা রিভিউ


ক্যানন ৬ডি এর একটি অ্যামেচার রিভিউ:

প্রথমত আমি একেবারেই অ্যামেচার ফটোগ্রাফার। ক্যামেরার প্রতি যতটা আগ্রহ ছবি তার ১০ভাগও তোলা হয় না। আমার প্রথম ডিএসেলার ক্যামেরা ১০০০ডি। প্রথম দিকে একেবারেই ছবি তুলতে পারতাম না। আসতে ধীরে ক্যামেরাটা চালাতে শিখি। এটা ২০০৯ এ কিনি তখন ডিএসেলার অতটা বাজার ছেয়ে যায় নাই। মোটামুটি ১লাখ শাটার কাউন্ট ছিলো এখন ওটা প্রায় মৃত ক্যামেরা। ২০১১তে ৬০ডি কিনি। খুবই দারুণ ক্যামেরা। এখনো আমার বোন ব্যবহার করে। তবে ওটার শাটার কাউন্ট মাত্র ৩০হাজার হবে হয়তো। ২০১৩তে অতিরিক্ত শখের বসে ৬ডি সাথে ১৭-৪০ আলদা করে হুট করে কিনে ফেলি! আমার অনেকদিনের শখ ফুল ফ্রেমের। যাই হোক একটা ছোটোখাটো রিভিউ দেই।

বডি স্ট্রাকচার

৬ডি এবং ৬০ডি এর এক্সটার্নাল বডিতে পার্থক্য খুবই সামান্য। ভালোমত খেয়াল না করলে এই দুটাকে একই বডি বলে মনে হবে। আমি আগে ৫ডি মার্ক ২ ব্যবহার করছি ওটার বডি অনেক প্রো লেভেলের। ৬ডি এর বডি ওরকম না।

ক্রপ বনাম ফুল ফ্রেম

আমি আগে ফুলফ্রেম কিছুদিন ব্যবহার করছি প্রফেশনাল বিয়ের খ্যাপ মারার সময়। তখন পার্থক্য বুঝি নাই অতটা। কারণ অনেক গুলা লেন্স ছিলো। এখন খুব ভালোমত বুঝতে পারতেছি। আমার লেন্স দুটা ১৭-৪০এল আর ৭০-২০০/৪এল ( নন আইএস )। ১৭-৪০ এলটা ভাবছিলাম অনেক ব্যবহার করবো কিন্তু যা বুঝতে পারতেছি আমার আসলে আল্ট্রা ওয়াইডে স্কিল নাই। ৭০-২০০টায় অনেক কমফর্টেবল ফিল করি। যাই হোক ফুল ফ্রেম আসলে হিউজ জাম্প। আমার কাছে ৭০-২০০লেন্সটা ফুল ফ্রেমে ব্যবহার করে খুবই আরামের লাগে। যেরকম কাজ করতে চাই সেটার পারফেক্ট। ক্রপে ৭০-২০০ অতিরিক্ত টাইট। মাঝারি মানের ইন্ডোর রুম হইলে ছবি তোলা দুস্কর হয়ে যেতো। ফুল ফ্রেমে ইন্ডোর আউটডোরে খুবই আরাম লাগে ছবি তুলতে। আর ১৭মিমিতেতো দুনিয়া বিশাল লাগে!

আইএসও পারফরমেন্স

৬ডি এর সবচেয়ে অসাধারণ ব্যাপার আইএসও। সিম্পলি সুপার্ব। ৬৪০০তে একেবারে ফকফকা ছবি আসে যেইটা দেখে আমি মুগ্ধ! ৬০ডি তে আমি ১৬০০এর উপরে যাওয়ার সাহস করতাম না। ভালোমত নয়েজ বুঝা যাইতো। কিন্তু ৬ডি এর ১০হাজার আইএসওতেও খারাপ লাগে না!

ছবির কোয়ালিটি এবং কালার

দুইটাই দুর্দান্ত। অনেক ন্যাচারাল কালার আসে যেটা আমি ৬০ডিতে পেতাম না।

ফোকাসিং

ফাস্ট লেন্স ব্যবহার করার কারণে ফোকাস পয়েন্টের সমস্যা খুব একটা ফিল করি নাই। ১১টা পয়েন্টের সব কয়টা আমার খুব একটা ব্যবহার করা হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মাঝের পয়েন্ট আর দুই সাইডে ২+২ ৪টা পয়েন্ট বেশি ব্যবহার করি। তবে ৫০/১.৮ টাইপের লেন্সে ৬ডি এর পারফরমেন্স কেমন হবে আমার ধারণা নাই কিন্তু ৪০/২.৮ প্যানকেকে অনেকে ব্যবহার করে বলছে খুবই ভালো আউটপুট আসে। ৫ডি৩ এর সাথে ৬ডি এর সবচেয়ে বড় পার্থক্যের একটা এই ফোকাস পয়েন্ট সংখ্যা। প্রো লেভেলের জন্যে এটা অবশ্য বড় ডিল।

৫ডি মার্ক ৩ এর সাথে তুলনা

অনেকগুলা রিভিউ দেখলাম যে ৫ডি৩ আর ৬ডি এর মধ্যে পার্থক্য খালি বডি স্ট্রাকচারে। এছাড়া সবই সেম। বিশেষ করে আইএসও অনেকক্ষেত্রে ৬ডি এর টা বেটার নাকি! যদি বিশেষ কোনো পারপোস না থাকে তাইলে ৫ডি৩ নেওয়ার মানে নাই।

সামারি

টাকা পয়সা সমস্যা না হইলে ৬ডি এর সাথে ২৪-১০৫ একটা চমৎকার ডিল।

বিশেষ করে যারা ক্যান্ডিড ফটোগ্রাফি করে তাদের এই সেটাপ থাকলে আর কিছু দরকার নাই ৩-৪বছরের জন্যে। তবে যারা ওয়াইল্ড লাইফ কিংবা পাখির ছবি তুলে আমার কাছে মনে হয় ফুল ফ্রেম বেশি এক্সপেন্সিভ হবে কারণ তখন ৩০০মিমি ৪০০মিমি লেন্সও কম জুম পাবে। এর থেকে ১ডি মার্ক ৪ (১.৩এক্স ক্রপ) বেটার হবে। ৬০ডিতে ৭০-২০০ দিয়ে অনেক বেশি জুম পেতাম যেটা আমি মাঝে মধ্যে মিস করি।

ছবির সূত্র: decltype  – উইকিমিডিয়া কমন্স

+ There are no comments

Add yours

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.