বনে বাদাড়ে: ২০০৯-০৫-০৩


গ্রীষ্ম শুরু না হলেও তার আমেজ শুরু হয়ে গেছে। গত সপ্তাহের হঠাৎ-গরম শেষে এ সপ্তাহে আবার একটু নরম। আজ ৩রা মে ২০০৯, তাপমাত্রা ১৯ডিগ্রি সেলসিয়াস, রৌদ্রজ্জ্বল দিন।

শীতের পরে আজই প্রথম গেলাম ন্যাচার পার্কে। সেই আগের মতই। গাছে নতুন পাতা আসছে, আর কদিন পরেই সবুজে ভরে যাবে বন। এক্ষণে বনের চেহারা আর বনের মত নেই– অধিকাংশ গাছের ডালে কোন পাতা নেই, কেবল আসা শুরু করেছে। অন্তত আরো এক মাস লাগবে পুরোপুরি সবুজ রূপ ধারণ করতে।

পার্কের ভিতরেই এনভায়রনমেন্ট কানাডার ছোট্ট অফিস। সেটি আজ বন্ধ। ওদের কী একটা স্ট্রাইক চলছে মনে হয়। সকলেই চলে গেছে কর্মবিরতিতে। বাইরে নোটিশ ঝুলছে। ভেবেছিলাম পয়েন্ট পিলি ন্যাশনাল পার্কের বাৎসরিক টিকিটটা এখান থেকে কিনে নেব। তা আর হলোনা।

যাহোক একটু ঘোরাফেরা করে চলে এলাম পাখির ছবি তুলতে। আজ প্রচুর পাখি এসেছে। দিনটাও সুন্দর, লোকজনের আনাগোনা কম। এমনিতেই এরা খুবই সভ্য, বনে এলে কখনোই হৈ চৈ করেনা। বরং বনের সৌন্দর্যটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করে।

_MG_2043
বনের ভেতরের ছবি।

_MG_2046

সাদা সাদা চেরি ফুলে ফুটে আছে থোকায় থোকায়। বনের আর কোথাও ফুলের কোন রেশ মাত্র নেই।

_MG_2044
লাল-ডানা কালোপাখি (Red-winged Blackbird) কালো হলেও আসলে খুবই সুন্দর। তেমনি সুন্দর ওর গলা। শুনতে চাইলে এখানে ক্লিক দিন। পাখিটা সারাক্ষণ নড়ে, একদন্ড বসেনা। তাই এক পা এসেছে, আরেক পা দেখা যাচ্ছেনা (নড়াচড়ার কারণে ফ্রেমে পরিস্কার আসেনি)।

_MG_2087
এ কয়টা ছবি তুলে ভাবলাম বনের মধ্যে দিয়ে ঘুরে আসি। বরফ গলা এখনো শেষ হয়নি, জায়গায় জায়গায় এখনো পানি জমে আছে। এর মধ্যেই ম্যালার্ড-টা দেখি কি যেন করছে।

দুপুর হয় হয় প্রায়, বনে মধ্যে কিছুই নাই। খালি পাতাহীন গাছ ঠায় দাঁড়িয়ে। আবার ফিরে আসি পাখির খোঁজে।

_MG_2073
এদের জন্য ফ্রি খাবারের ব্যবস্থা আছে। সেখানেই দুলছে এটা।

_MG_2070
চড়ুইয়ের কদর কেউ করেনা। তাই ছবিটা তুলে রাখলাম।

_MG_2058
আবারো নর্দার্ণ কার্ডিনাল বা লালপাখি (পুরুষ)। বাংলা উইকিতে এটা নিয়েই এখন লিখছি।

_MG_2060
নর্দার্ণ কার্ডিনাল বা লালপাখি (স্ত্রী)। লক্ষ্য করুন স্ত্রী পাখিটা কিন্তু পুরুষটার মতো লাল রঙের নয়!

_MG_2063
লালপাখি (স্ত্রী), খাবার দেখে মাটিতে নেমে এলো। এরা মুলতঃ বীজভূক।

Categories

+ There are no comments

Add yours

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.