বিষাক্ত ঘাগরা শাক


ঘাগরা শাক প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বর্ষজীবি বিরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণতঃ ভেজা মাটি ও ফসলী জমির আশেপাশে এরা জন্মে। কচি গাছ ও বিচিতে কার্বোক্সিঅ্যাট্রাক্টিলোসাইড নামক বিষাক্ত উপাদান থাকে [১]। গবাদিপশু এই উদ্ভিদ খেয়ে বিষক্রিয়ার আক্রান্ত হয় ও মারা যায়। উদ্ভিদটি বড় হওয়ার সাথে সাথে এর বিষাক্ততা কমে যায়। তবে এর পাতা খেলে যকৃতের ক্ষতি হয় [৩]।

বাংলা নাম: ঘাগরা শাক
ইংরেজী নাম: Cocklebur
বৈজ্ঞানিক নাম: Xanthium strumarium

উত্তর আমেরিকার ঘাগরা শাক ছোটদিনের উদ্ভিদ, অর্থাৎ বছরের যে সময়ে দিন ছোট হয়ে আসে (জুলাই থেকে অক্টোবরে) তখন এদের ফুল ফোটে। তবে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ায় যেখানে দিনের দৈর্ঘ ততটা হেরফের হয়না, সেখানেও এরা বংশবিস্তার করতে পারে।

বাংলাদেশের কিছু কিছু অঞ্চলে মানুষ এটিকে শাক হিসেবে খেয়ে বেশ কয়েকজন মৃত্যুমুখে পতিত হয় [২]। এর বিচি ও কচি চারা সবচেয়ে বিষাক্ত। আক্রান্ত প্রাণির মাথা ঘোরে, বমিবমি ভাব হয়, হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় ও অনিয়মিত স্পন্দন হয়, ঘাড়ের মাংশপেশী মুচড়ে যায়, এবং অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে [৪]।

অনেক অপকারিতা থাকলেও হলুদ রং তৈরিতে ও চীনা ভেষজ চিকিৎসায় এর ব্যবহার দেখা যায়। ফসলের ক্ষতিকারক অনেক পোকা এর থেকে দূরে থাকে যা প্রকারন্তরে কৃষকের উপকারে আসে।

প্রাপ্তিস্থান:
এটি উত্তর আমেরিকা, পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার স্থানীয় উদ্ভিদ। প্রাকৃতিকভাবে কোন রকম পরিচর্যা ছাড়াই এরা জন্মায়।

সনাক্তকরণ:
ঘাগরা শাক ৫০-১২০ সে.মি. লম্বা হয়। কোনো কোনো প্রজাতি গায়ে কাঁটা থাকে।

বংশবিস্তার:
ফুল ফোটে এবং বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। এতে দুই ধরনের ফুল ফোটে। এক ধরনের ফুল হয় যেখান থেকে শুধু রেণু ছড়ায়। আরেক ধরনের ফুল হয় যা থেকে বীজ উৎপন্ন হয়। বীজের গায়ে কাঁটাযুক্ত খোলস থাকে। মানুষ বা অন্য কোন প্রাণির কাপড়ে বা গায়ে লাগলে সহজে ছাড়ানো যায়না।

তথ্যসূত্র:
[১] কানাডার বিষাক্ত লতা ও গুল্ম
[২] দৈনিক প্রথম আলো
[৩] আইসিডিডিআর,বি’র গবেষণার রিপোর্ট।
[৪] উইকিপিডিয়া

+ There are no comments

Add yours

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.