ঘুরে আসি ঢাকা চিড়িয়াখানা


চলুননা ঘুরে আসি বাবলা দ্বীপ থেকে। অবাক হলেন? ভাবছেন বাবলা দ্বীপ আবার কোথায়? না, দূরে যাত্রার ধকল নেই, নেই সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার ভয়। বিশাল সিন্ধুর জলরাশিও পেরোতে হবে না। বাবলা দ্বীপ ঢাকা চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরে অবস্থিত ছোট্ট একটি দ্বীপ। দৈনন্দিন জীবনের অনেক কিছুর ভীড়ে আমাদের চারপাশেই রয়েছে চিত্ত বিনোদনের চমৎকার ব্যবস্থা। ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত চিড়িয়াখানা সেসবেরই একটি মাত্র। চলুন, বাবলা দ্বীপ দেখার ছলে ঘুরে আসা যাক ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে।

zoo-elephant-ride.jpg
চিড়িয়াখানায় হাতির পিঠে চড়া

রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র হতে প্রায় ১৬ কিঃমিঃ দূরে মিরপুরে এক মনোরম প্রকৃতিক পরিবেশে ঢাকা চিড়িয়াখানা অবস্থিত। পঞ্চাশের দশকে ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে সীমিত ভাবে চিত্রা হরিণ, বানর সহ কয়েকটি প্রজাতির বন্যপ্রাণি নিয়ে চিড়িয়াখানার যাত্রা শুরু। মিরপুর এলাকায় ১৯৬০ সনে চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠাকল্পে একটি প্রকল্প নেয়া হয়। প্রাণিদের বাসস্থান ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরী, হাইকোর্ট সংলগ্ন চিড়িয়াখানা হতে বন্যপ্রাণি স্থানান্তর ও দেশ-বিদেশের প্রাণি সংগ্রহের পর ১৯৭৪ সনের ২৩ জুন জনসাধারণের জন্য বর্তমান চিড়িয়াখানা উন্মুক্ত করা হয়। জনসাধারণের বিনোদন, দূর্লভ, বিলুপ্তপ্রায় বন্য প্রাণি সংগ্রহ ও প্রজনন, প্রাণি বৈচিত্র সংরক্ষণ, শিক্ষা, গবেষণা এবং এ বিষয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধি ঢাকা চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য।

বেঙ্গল টাইগারই ঢাকা চিড়িয়াখানার প্রধান আকর্ষণ। চিড়িয়াখানায় নানা রকম দেশী বিদেশী জীব-জানোয়ার ছাড়াও রয়েছে কয়েকশ প্রজাতির পাখি। রয়েছে আধাপ্রাকৃতিক লেক, লেকের উপর বিশালকায় পেলিক্যান পাখি। তার পাশে দেখা যায় প্রাকৃতিক পরিবেশে বেঙ্গল টাইগার ও সিংহ। হরেকরকম পাখির মধ্যে রয়েছে ফ্লেমিংগো, রঙিন ফিজ্যাণ্ট, বিলুপ্তপ্রায় কুড়া, কাল শকুন এবং শঙ্খ চিল।
এক নজরে

এক নজরে

প্রতিষ্ঠাকাল

:
১৯৬১ সন
জনসাধারণের জন্য উন্মুক্তকরণ
:
২৩ জুন ১৯৭৪
মোট জমির পরিমান
:
২১৪ একর
ব্যবহৃত জমির পরিমান
:
১৮৭ একর
লেক
:
২ টি
পশুপাখির ঘর
:
১১৯ টি
প্রাণি জাদুঘর
:
১ টি
মসজিদ
:
১ টি
সাপ্তাহিক ছুটি
:
রবিবার
পরিদর্শন
:
(এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা – বিকাল ৬টা , (অক্টোবর – মার্চ) সকাল ৭টা – বিকাল ৫টা
জু গাইড
:
২৪ টাকা
প্রবেশ মূল্য
:
১০ টাকা (২৯ জুলাই ২০০৫ মোতাবেক)

প্রবেশ পথেই চোখে পড়ে বানরের খাঁচা। ছোট-বড় অসংখ্য বানরের বাঁদরামি দেখতে দেখতে কখন যে সময় পার হয়ে যায় তা টেরই পাওয়া যায়না। সামনে এগুলেই হাতের বামে পড়বে বিশালাকায় এভিয়ারি। লম্বা পা আর বাঁকানো ঠোঁটের ফ্লেমিংগোর দেখা মেলে এখানেই। আরো রয়েছে কানিবক, পানকৌড়ি ও মাছরাঙার মত পাখি। বাংলাদেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের (রয়েল শব্দটি বৃটিষদের দেয়া) আগেই দেখা মিলবে ভারতীয় সিংহের সাথে। সিংহের খাঁচা পেরোলেই বাঘ ও ভালুকের খাঁচা। রয়েছে চিতার (Cheeta) মত দ্রুতগতিসম্পন্ন প্রাণি। এ তো গেল চিড়িয়াখানার মধ্যাঞ্চলের কথা। উত্তরে রয়েছে উত্তর লেক, তার পাশেই প্রাকৃতিক পরিবেশে রাখা সুন্দরবনের বাঘ, পাশে সিংহ। কৃত্রিম জলাশয়ে রয়েছে জলহস্তি।

zoo-visitors.jpg
চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের একাংশ

চিড়িয়াখানার উত্তর-দক্ষিণে লম্বাটে এলাকাজুড়ে রয়েছে ঘোড়া আকৃতির ওয়াটার বাক্ , জেব্রা সহ আরো কিছু প্রাণি। রয়েছে এদেশ থেকে বিলুপ্ত নীলগাই। প্রাণি জাদুঘরে আছে ২৪০ প্রজাতির স্টাফিং করা জীব-জন্তু-পাখি। একেবারে দক্ষিণে আছে দক্ষিণ লেক, তার মাঝে বাবলা দ্বীপ। পাশেই কেনিয়ার এক শিংওয়ালা গন্ডার। সঙ্গী হারিয়ে এখন সে বড় নিঃসঙ্গ। বাবলা দ্বিপের উন্মাতাল হাওয়া তার মনে বিন্দুমাত্র দোলা দেয়না। শিম্পাঞ্জীর দেখা মিলবে এখানেই। নারী শিশু সকলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এই শিম্পাঞ্জী। শক্ত গ্রীল ধরে লাফালাফি আর সঙ্গীর মাথার উকুন বেছেই কাটছে সময়।

চিড়িয়াখানায় আছে হাঁসজাতীয় নানা পাখি, লাভ বার্ড, মুনিয়া, উটপাখি, কেশোয়ারী ইত্যাদি। বের হওয়ার পথে দেখা যায় সুন্দরবনের প্রকৃতিক পরিবেশে চিত্রল হরিণ। নগর জীবনের ব্যস্ততার মাঝে একটুখানি প্রাণের পরশ পেতে চলুন ঘুরে আসি চিড়িয়াখানা থেকে। সঙ্গে নিন আপনার ছোট ছেলেমেয়েদের। প্রকৃতির মাঝে কাটুক না তাদের একটি দিন।

তথ্যসূত্র: ঢাকা চিড়িয়াখানা গাইড, পশুসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকার।

+ There are no comments

Add yours

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.